রংপুর মহানগরীতে চুরি করতে দেখে ফেলায় আসাদুল হক (৬০) নামে এক সিনিয়র আইনজীবীকে দুই জন মিলে ছুরিকাঘাত ও গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে রতন মিয়া (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে রংপুর নগরীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মদাস বারো আউলিয়া গ্রামে ঐ আইনজীবীর বাড়িতে হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত আসাদুল হক রংপুর জজ কোর্টের প্রাক্তন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ও সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
মেট্রোপলিটন তাজহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রোকোনুজ্জামান বলেন, দুই জন মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে রতন জানিয়েছে। অপর হত্যাকারীকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিতে অজুু করার সময় রতন মিয়া ও তার সঙ্গীকে বাড়িতে চুরি করতে দেখে ফেলেন আসাদুল। এ কারণে ঐ যুবকরা বাড়িতে তাকে একা পেয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করার পর গলা কেটে হত্যা করে। পরে বাড়ির দেওয়াল টপকে পালানোর সময় স্থানীয় কয়েক জন মুসল্লি রতনকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। আটক রতন একই গ্রামের মৃত জাফর আলী ড্রাইভারের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় স্থানীয়রা। এর আগে ঐ আইনজীবীর বাড়িতে দুই-তিন বার চুরির ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে রতনকে সতর্ক করা হয়েছিল।
নিহতের স্ত্রী সাবেরা রহমান বলেন, করোনার কারণে আমি গ্রামের বাড়ি মিঠাপুকুরে ছিলাম। সেখান থেকে খবর পেয়ে এসে দেখি তারা আমার স্বামীকে এভাবে হত্যা করেছে। এর আগেও রতন মিয়া একাধিক বার আমাদের বাড়িতে চুরি করেছে। কিন্তু গ্রাম্য বিচারে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমি এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
