করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের মস্তিষ্কে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় ব্রেইন স্ট্রোক করে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তার এই অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন। আগামী ৪৮ ঘণ্টা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন চিকিত্সকরা। মোহাম্মদ নাসিমের সুস্থতা কামনায় তার পরিবার ও ১৪ দলের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
জ্বর-কাশিসহ করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে গত ১ জুন দুপুরে ঢাকার শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন মোহাম্মদ নাসিম। সেখানে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতে ঐ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। পরের তিন দিনে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। পরে হাসপাতালের চিকিত্সকরা তার দ্রুত অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান ও বিশিষ্ট নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টায় তার অস্ত্রোপচার সফল হয়। অপারেশনকালীন সময় এবং এর আগে ও পরে কয়েক দফায় মোহাম্মদ নাসিমের চিকিত্সার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মোহাম্মদ নাসিমের পুত্র তানভীর শাকিল জয় ও অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
জানা গেছে, মোহাম্মদ নাসিমের ব্রেইন স্ট্রোক হওয়ার পরপরই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) অ্যাম্বুলেন্স তাকে নিয়ে আসতে যায়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় নেওয়া যায়নি। স্পেশালাইজড হাসপাতালেই তার অপারেশন করা হয়। চিকিত্সকরা বলেন, মোহাম্মদ নাসিমের বড়ো ধরনের ব্রেইন স্ট্রোকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তার অপারেশন সফল হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে আছেন। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাকে। তিনি এখনো করোনামুক্ত হননি বলেও জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।
জানা যায়, মোহাম্মদ নাসিমের স্ত্রী মিসেস লায়লা আরজুমান্দ করোনা আক্রান্ত হয়ে বিগত কয়েক দিন আগে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাসায় ফিরে গেছেন তিনি। মোহাম্মদ নাসিমের অস্ত্রোপচার শেষে তার পুত্র তানভীর শাকিল জয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার পরিবার চরম বিপর্যয়ের মধ্যে আছে। আমার মা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে চার দিন চিকিত্সা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় গেছেন। এর পরই আমার বাবাকে এ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এখানে যখন নিয়ে আসা হয় তখন আমার বাবার ফুসফুসে ৫০ শতাংশের বেশি সংক্রমণ ছিল। বাবার অপারেশন চলাকালে একাধিকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যোগাযোগ করেছেন। অপারেশনের পর প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. রাজিউল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, আমার বাবার চিকিত্সার জন্য ভবিষ্যতেও সব কিছু করবেন। প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী সব কিছু করেছেন।’ মোহাম্মদ নাসিম যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে যান এ জন্য সকলের কাছে দোয়া চান তার পুত্র তানভীর শাকিল জয়।
এদিকে ১৪ দলীয় জোটের ১২ জন নেতা গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে মোহাম্মদ নাসিমের অসুস্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেন। ১৪ দলের নেতারা তার দ্রুত রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। বিবৃতিতে সই করা নেতারা হলেন— ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণ-আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এস কে শিকদার, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান এবং গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন।
