সিলেট নগরীতে বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিত্সা না পেয়ে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার পরও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না। শুক্রবার আবারও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। এসব ঘটনায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
জানা গেছে, সিলেট বন্দর বাজারের আরএল ইলেকট্রনিকের স্বত্বাধিকারী ও নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন খোকা চারটি হাসপাতালে ঘুরে চিকিত্সা না পেয়ে মারা গেছেন। এর আগে ইকবালের মতো আরো দুই জন রোগী নগরীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে চিকিত্সা না পেয়ে মারা যান।
ছেলে তিশাম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বাবার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তিনি প্রথমে সোবাহানীঘাট এলাকার একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল করেন। অ্যাম্বুলেন্স আসার পর দেখা যায় এর অক্সিজেন সিস্টেম ভাঙা। তারপরও রোগীকে সোবাহানীঘাটের ঐ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে রোগীর অক্সিজেনের ব্যবস্থা না করে নিয়মকানুন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে তারা বলেন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে নিয়ে যেতে। অক্সিজেন ব্যবস্থা ছাড়াই রোগীকে দক্ষিণ সুরমার ঐ হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা যায় হাসপাতালে সিট নেই। পরে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন করোনা হাসপাতালে গিয়ে তারা সবকিছু বন্ধ পান। ১০-১৫ মিনিট পরে এক নিরাপত্তাকর্মী এসে জানান, হাসপাতালের সবাই ঘুমে। তখন তারা সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে শ্বাসকষ্টে ভোগা কাজীটুলা এলাকার এক নারী সিলেটের ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরেও চিকিত্সা পাননি। পরে ওসমানী হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই দিনে শ্রীমঙ্গল থেকে স্ট্রোক করে সিলেটে আসা এক রোগী সাতটি হাসপাতাল ঘুরে চিকিত্সা না পেয়ে মারা যান।
