সবজি, ডিমের দাম বাড়ায় বিপাকে স্বল্প আয়ের মানুষ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২০, ২২:১৮

মাস খানেক আগেও প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ছিল ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকার মধ্যে। আর এখন ৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। সেই সঙ্গে গত প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডিমের দামও বাড়তি। এতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। বিশেষ করে নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষরা রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, উত্তরা ও তুরাগ এলাকার কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এই চিত্র দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রতি বছরই বাজারে সবজির সরবরাহ কমে যায়। তবে সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে অনেক সবজিক্ষেত নষ্ট হওয়ায় বাজারে সবজির সরবরাহ কমার আরেকটি কারণ।

গতকাল বাজারভেদে ঢেঁরস, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। এছাড়া কুমড়া, লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে কাঁচামরিচের দাম তুলনামূলকভাবে কম। প্রতি কেজি ৪০ টাকা। তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের ব্যবসায়ী মো. জয়নাল বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনা সংকটের কারণে শুরুতেই কৃষক এবার সবজিতে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেক কৃষকই তাদের উত্পাদিত সবজি বিক্রি করতে পারেননি। ফলে এখন বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সম্প্রতি ব্র্যাকের পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার প্রভাবে গত দেড় মাসে সারাদেশে কৃষকের লোকসান হয়েছে আনুমানিক ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকারও বেশি। মোট কৃষকের ১১ শতাংশ এবং পোলট্রি কৃষকের মধ্যে ১৭ শতাংশ তাদের উত্পাদন কমিয়েছেন। উত্পাদন বন্ধ করে দিয়েছিলেন ২ শতাংশ কৃষক।

এদিকে পোলট্রি খাতে উত্পাদন কমায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ডিমের দামে। বর্তমানে বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা। অথচ সপ্তাহ দুয়েক আগেও ডিমের হালি ছিল ২৭ টাকার মধ্যে।