বিজয়ের ১৮৪৩ রান!

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৮

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কী দুর্দান্ত শুরুই না পেয়েছিলেন এনামুল হক বিজয়। ১৯ ওয়ানডেতেই তিন সেঞ্চুরি। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর তিন বছর দলের বাইরে। গত বছর ওয়ানডে দলে ফিরে সাত ম্যাচ খেলে করেছেন ৮৭ রান! আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এমন বিবর্ণ হলেও ২০১৮ সালটা ব্যাটসম্যান বিজয়ের জন্য অসাধারণই কেটেছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ব্যাটে ছিল রানের ফল্গুধারা। ২০১৮ সালে চারটি টুর্নামেন্ট খেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮৪৩ রান করেছেন বিজয়। যেখানে ঢাকা  প্রিমিয়ার লিগে ৭৪৪, এনসিএলে ২৭৮, বিসিএলের দুই আসরে ১৬৩ ও ৬৫৮ রান করেন তিনি। এ তালিকার সেরা পাঁচে তার পরেই আছেন নাঈম ইসলাম (১৭৯৬), জুনায়েদ সিদ্দিকী (১৭৯৪), আব্দুল মজিদ (১৭৪৪) ও সাদমান ইসলাম (১৬৯৩)।

রান জোয়ারের বছর শেষে নতুন শুরুর দ্বারপ্রান্তে বিজয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলবেন বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। পেছনে ফিরে তাকিয়ে ২০১৮ সালের ব্যাটিং নৈপুণ্যে বেজায় খুশি ডানহাতি এ ওপেনার। গতকাল বিসিবি একাডেমিতে একান্ত আলাপে বিজয় বলেছেন, রানের সঙ্গে অভিজ্ঞতা যোগ হওয়ায় বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। জাতীয় দলে ফিরতে পারলে সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন।

গত বছরের পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে বিজয় গতকাল বলেছেন, ‘বিসিএলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। যদিও প্রিমিয়ার লিগে ৫ রানের জন্য দ্বিতীয় হয়েছি। ঘরোয়া ক্রিকেটটা আমার জন্য দারুণ গেছে। এর মধ্যে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছি, একটা ১৮০, একটা ১৭০ সবমিলিয়ে ৬-৭টা বড় সেঞ্চুরি। জাতীয় দলে ফিরে আসার দারুণ একটা সুযোগ পেলাম। কিন্তু ভালো করতে পারিনি। আমি কিছু ইনিংসে সেট হয়ে আউট হয়ে গেছি। আমার কাছে মনে হয় ২০১৮ সাল বিশ্লেষণ করলে আমার জন্য ভালোই গেছে।’

এক বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৮৪৩ রান করার তৃপ্তি ঝরে পড়ল বিজয়ের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমি সবসময় ক্যারিয়ারে ভালো অবস্থায় ছিলাম। সবার একটা খারাপ সময় যায় যে, অনেকে টানা ১০-২০ ইনিংস রান করছে না।  কখনোই আমার এমন সময় যায়নি যে, বিজয় ১০ ইনিংস ধরে রান করছে না। এটা আমাকে খুব তৃপ্তি, শান্তি দেয়। নিজের মাঝে একটা সন্তুষ্টি আসে যে, আমি সবসময় একটা রানের মধ্যে থাকি। এটাকে আরও ভালো করার সুযোগ আছে।’

ক্যারিয়ারে ৮৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, ১২৬টি লিস্ট-এ ম্যাচ খেলা ব্যাটসম্যান বিজয়ের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার এখন বেশ সমৃদ্ধ। আর অভিজ্ঞতার কারণে ব্যাটিংয়ে ধৈর্য ও মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা বেড়েছে। আবার জাতীয় দলে সুযোগ পেলে রান করবেন বলে আশাবাদী ২৬ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার।

তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি রান করবো। আমি পুরো আত্মবিশ্বাসী। আমার প্রথম শ্রেণিতে ১৭টা, লিস্ট-এ তে ৯টা, টি-২০ তে একটা সেঞ্চুরি, সর্বমোট ২৭টা সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। আমার কাছে মনে হয় রান আমি করতে পারবো। এবার ভালো করিনি, এটা নিয়ে ভাবছি না। কারণ সুযোগ আসবেই। সুযোগের অপেক্ষায় আছি অবশ্যই। সুযোগ আসলেই তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো।’

এবার কুমিল্লার হয়ে বিপিএল মাতাতে চান দারুণ ছন্দে থাকা বিজয়। যেখানে তার সতীর্থ হবেন স্টিভ স্মিথ। বিশ্বের অন্যতম সেরা এ ব্যাটসম্যানের অনেক কিছু শিখতে চান তিনি। গতকাল বলেছেন, ‘আমি মনে করি, আধুনিক ক্রিকেটে কোহলি, স্মিথ, রুট, উইলিয়ামসনদের ধরা হয় যে, এরা নিজেদের কিংবদন্তির পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে স্মিথ অন্যতম সেরা। ওদের আক্রমণাত্মক মনোভাব, আচরণ, চিন্তা-ভাবনা এগুলো অসাধারণ। আমি ৪-৫টা প্রশ্ন প্রস্তুত করে রেখেছি স্মিথের জন্য। স্মিথ আসলে আমি ওকে জিজ্ঞাসা করবো।’