গাভাস্কার-বোর্ডার ট্রফিতে নিজেদের কর্তৃত্বটা আগেই নিশ্চিত করেছে ভারত। এবার দলটির স্বপ্ন সিরিজ জয়ের। সেটা খুব অসম্ভবও নয়। তিন ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিরাট কোহলিরাই এগিয়ে আছে ২-১ ব্যবধানে। ফলে কাল থেকে সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের শেষ টেস্ট জিতে নিয়ে চাইলে সিরিজটা নিজেদের করে নিতেই পারে ভারত।
দলের সেরা দুই খেলোয়াড় স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নার না থাকায় ভারতের বিপক্ষে নিজেদের কন্ডিশনে ফেভারিটের তকমাটা পায়নি অস্ট্রেলিয়া। তাই ভারতের সমান অবস্থানে থেকেই টেস্ট সিরিজ শুরু করেছিলো অসিরা। স্মিথ-ওয়ার্নার না থাকার পার্থক্য প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দেয় ভারত। ব্যাট-বল হাতে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে ৩১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। সিরিজে দুর্দান্ত শুরুর পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় ভারতের। অন্যদিকে, সিরিজে ফেরার জন্য তেতে ছিলো অস্ট্রেলিয়া। অ্যাডিলেডে না পারলেও পার্থের নতুন ভেন্যুতে ঠিকই জ্বলে উঠে স্বাগতিকরা। বোলারদের বিধ্বংসী রূপের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন ভারতের ব্যাটসম্যানরা। ফলে ১৪৬ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা আনে অস্ট্রেলিয়া। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এমন অসহায়ত্বে অধিনায়ক কোহলির মনে ক্ষোভের জন্ম নেয়। পার্থ টেস্ট শেষে তিনি বলেন, ‘ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিতে হবে। নয়তো ভালো কিছুর আশা ছেড়ে দিতে হবে।’
মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে বড় পরিবর্তন এনে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামে ভারত। দুই ওপেনার মুরালি বিজয় ও লোকেশ রাহুলকে একাদশের বাইরে রাখতে বাধ্য হয়। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে ৪ ইনিংসে বিজয় ৪৯ ও রাহুল ৪৮ রান করেন। ফলে তৃতীয় টেস্টের জন্য তাদের বিবেচনা করেনি ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
মেলবোর্নে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমেই ওপেনার হিসেবে সুযোগ পান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। শুরুতে তার সঙ্গী হন হানুমা বিহারি। দুই ইনিংসেই নিজের জাত চিনিয়েছেন আগারওয়াল। প্রথম ইনিংসে ৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৪২ রানের দায়িত্ব পূর্ণ ইনিংস খেলেন আগারওয়াল। আর ঐ টেস্টেই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন ব্যাটসম্যানরা। তাই প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৪৪৩ রানের বড় সংগ্রহ পায় ভারত। এরপর বোলারদের নৈপুণ্য ভারতকে টেস্ট জয়ের স্বাদ দেয়। বিশেষভাবে ডানহাতি পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। ম্যাচে ৯ উইকেট নেন তিনি। তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান এই পেসার। ভারত ম্যাচ জিতে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে। ফলে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিরাট কোহলির দল।
সিরিজে এগিয়ে থাকায় বেশ ফুরফুরা মেজাজে ভারত। তবে সিরিজের শেষ টেস্টে আরও ভালো পারফরমেন্স করতে মুখিয়ে আছে তারা। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের কাজটা এবারই সারতে চায় ভারত। ১৯৪৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছে ভারত। আজ অবধি কোনো টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি টিম ইন্ডিয়া। তবে এবার প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের স্বাদ নিতে চায় দল বলে জানালেন ভারতের সহ-অধিনায়ক আজিঙ্কা রাহানে, ‘আমরা কখনও অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিততে পারিনি। এবার দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছে আমাদের সামনে। জয় বা ড্র হলেই সিরিজ জিতে নিতে পারবো আমরা। এই সুযোগ যেভাবেই কাজে লাগাতে চাই। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য ম্যাচ জয়। কারণ আমাদের সবার মধ্যে আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। এখানে আমরা জিততে পারি, সেটি প্রমাণ করেছি। তাই আর একটি টেস্টে ভালো খেলতে পারলেই সিরিজ জিতে নিতে পারবো। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জয় করা অনেক বড় ব্যাপার। এটি ভারতের ক্রিকেটের বড় অর্জনই হবে।’
২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় এখন আর সিরিজ জয় করা সম্ভব নয় অস্ট্রেলিয়ার। তবে সিরিজ হার এড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাদের। সেজন্য সিডনি টেস্টে জিততেই হবে, জয় ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই অসিদের। তাই পুরো দল ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলে জানালেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার জশ হ্যাজেলউড, ‘আমরা এখন ব্যাকফুটে। তবে আমরা সাহস হারায়নি। পুরো দল নিজেদের উপর আস্থা রেখেছে। কারণ আমরা জানি, কিভাবে লড়াই করতে হয় এবং সিরিজ বাঁচাতে হয়। অতীতেও এমন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি আমরা। পার্থে যেভাবে ভারতকে ঘায়েল করেছি, ঠিক সেভাবেই আমরা ফিরে আসবো এবং সিরিজ হার এড়াবো।’
