ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রথম ইরানের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে সেদেশের নারী জাতীয় ফুটবল দলের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দলটি ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে রাশিয়ার মুখোমুখি হবে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএকে এ তথ্য জানান। তিনি আরো জানান যে তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে কেবল নারী দর্শকরাই খেলাটি দেখতে পারবেন। তবে এখনো খেলাটির কোনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এশিয় ফুটবলের অন্যতম শক্তি ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সেদেশে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেয়া হচ্ছিল না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবশ্য এ নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়। এরই ফলশ্রুতিতে নভেম্বরে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ৮৫০ জনের বাছাইকৃত এক গ্রুপ নারীকে খেলাটি দেখতে দেয়া হয়েছিল। এতে অংশ নিয়েছিল ইরানের পেরসেপোলিস ও জাপানের কাশিমা অ্যান্টলার্স।
নারী দর্শকদের ওই খেলায় আলাদা গ্যালারিতে বসতে হয়েছিল। এমনকি ভিড় এড়াতে তাদের মাঠে ঢুকতে হয়েছিল দুই ঘন্টা আগে। এছাড়াও আজাদি স্টেডিয়ামে গেল জুনে বিশ্বকাপের সময় কিছু নারীকে ইরানের সম্প্রচারিত খেলা দেখতে দেয়া হয়েছিল।
ইসলামি বিপ্লবের পর ২০০১ সালের নভেম্বরে নারীদের প্রথম কোনো ফুটবল ম্যাচ দেখতে দেয়া হয়েছিল। সেটা ছিল ইরান ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের একটি খেলা যাতে ২০ জন আইরিশ নারী মাঠে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন।
এরও চার বছর পর জনাকয়েক নারী ২০০৫ সালের ৮ জুন আরেকটি খেলায় মাঠে যেতে পেরেছিলেন। সেটিও ছিল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা যাতে অংশ নিয়েছিল ইরান ও বাহরাইন। মেয়েদের মাঠে গিয়ে খেলা দেখার ব্যাপারে ইরানের কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভক্তি আছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ও বলিভিয়ার খেলাটির পর সেদেশের প্রসিকিউটর জেনারেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন এরকমটা আর ঘটবে না। কারণ এসব ‘পাপের পথে নিয়ে যায়’। উল্লেখ্য, নারী দর্শকদের অধিকার আদায়ে ‘ওপেনস্টেডিয়ামস’ নামে একটি গ্রুপ সক্রিয় আছে ইরানে।
