টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ নতুন করে ১৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষসহ আক্রান্তদের বাড়ির আশপাশে বেশ কিছু বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
শনিবার নতুন ১৪ জনসহ এ পর্যন্ত মোট ৪৯ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাকসুদা খানম।
গত ৮ মার্চ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত ঢাকাস্থ মির্জাপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সহ সভাপতি এবং মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং বহুরিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ি সরকার বাড়ি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার মো. খলিলুর রহমান তোতা এবং কামারপাড়া গ্রামের রেণু বেগম মারা গেছেন। প্রতি দিন লাফিয়ে লাফিয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।
শনিবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ৮ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ জন। দুই দিনের ব্যবধানে ১৪ জন আক্রান্ত হন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, শনিবার পর্যন্ত ৪৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন যা টাঙ্গাইল জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে সর্বাধিক।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুবায়ের হোসেন এবং মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মির্জাপুর একটি জনবহুল গুরুত্ব উপজেলা। এখানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও গাজীপুর থেকে লোকজন বিভিন্ন কৌশলে প্রবেশ করছেন। এছাড়া গোড়াইতে রয়েছে শিল্পাঞ্চল। বিপুল সংখ্যক লোকজনকে সচেতন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্য বিধি মেনের চলার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দিন রাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম বলেন, করোনায় নতুন ভাবে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের বাসা বাড়ির আশপাশে দুই শতাধিক বাড়ি লকডাউন করা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী এবং স্বাস্থ্য বিভাগ সামাজিক দূরত বজায় রেখে করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে সচেতন করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/এমআরএম
