মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পিরোজপুর ময়দান

‘নানা ছুতায় চলছে দখল’

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ২১:০৫

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

যত দূর চোখ যায় শুধু কাঠ আর কাঠ। স্তূপাকারে সাজানো কাঠের কোনোটি গোল, কোনোটি চিরানো বা আস্ত গুঁড়ি। রয়েছে বনজ বা ফলদ গাছের কাঠ। নিলামে কেনা অথবা চোরাই। এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়াগাছা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক পিরোজপুর ময়দানের দৃশ্য।

প্রবীণরা জানান, ষাটের দশকে এলাকার ক্রীড়ামোদীরা হালকা গজারি জঙ্গল সাফ করে চার একরের সুপ্রশস্ত ময়দান তৈরি করেন। ময়দানের এক পাশে ছিল বাজার, অপর পাশে ঈদগাহ। বাকিটা খেলার মাঠ। ক্রীড়া ছাড়াও গ্রামীণ মেলা, যাত্রাপালা, থিয়েটার, গানবাজনা, সমাবেশসহ শারীরিক কসরত ও বিনোদনের ক্ষেত্র ছিল এ ময়দান। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, একাত্তরের প্রথম প্রহরে এ ময়দানে গেরিলা প্রশিক্ষণ হতো। হানাদার বাহিনী মধুপুরে ঘাঁটি গাড়লে মুক্তিযোদ্ধারা গহীন বনে আশ্রয় নেন। পিরোজপুর বাজারের ব্যবসায়ী সুরুজ্জামানা জানান, নানা ছুতায় ময়দানের জায়গা দখল চলছে। হাটবাজারের জায়গা প্রথম দখল হয়। পরে কৌশলে হাটবাজার ময়দানে ঠেলে দেওয়া হয়। একজন সাবেক ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে জবরদখল শুরু। এখন ব্যবসায়ীরা স্তূপাকারে কাঠ সাজিয়ে ময়দান দখল করছেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান আহমেদ জানান, পাহাড়ি দশ গ্রামের যুবকরা যুগের পর যুগ ধরে এখানে প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলাসহ সাংস্কৃতিক উত্সবে মাততেন। এ ময়দান বহু কৃতী ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরি করেছে। কিন্তু সাত চক্র মিলে পুরো ময়দান গ্রাস করায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এখন বন্ধ্যাত্ব চলছে। রামজীবন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমানউল্লাহ মিয়া জানান, সবার চোখের সামনে সুবিশাল ময়দান ভাগবাঁটোয়ারা হলো। ঐতিহ্যবাহী উদয়ন ক্লাব পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো। পরে ক্লাবের জমি বিক্রির সাড়ে ১৬ লাখ টাকার পুরোটাই দানখয়রাত করা হলো। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কামরুজ্জামান জানান, ময়দানের কিছু জমি বন বিভাগের। কিছু অংশ এক গারোর। আর অল্পবিস্তরের মালিকানা নিয়ে কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করে প্রভাবশালীরা পুরো সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছেন। খেলার মাঠ বন্ধ থাকায় এলাকায় মাদকাসক্তি বাড়ছে। পিরোজপুর বাজার কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম মেম্বার জানান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ধুঁয়ো তুলে কেউ কেউ ময়দান দখলের পাঁয়তারা করছেন। তাদের ঠেকাতে ময়দানে স্তূপাকারে কাঠ সাজানো হয়েছে। কুড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক জানান, এ যুগের ছাওয়ালরা খেলাধুলা করে না। খেলাধুলার চেয়ে হাটবাজারের গুরুত্ব বেশি। তাই ময়দানে হাটবাজার সম্প্রসারণ করা হবে। মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা জহুরা জানান, তিনি বিষয়টিতে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।