পাশশূন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন অর্থ অপচয় করা হইবে?

আপডেট : ০৬ জুন ২০২০, ২২:১১

একটি দেশ উন্নত করিতে শিক্ষা প্রসারের বিকল্প নাই। এই প্রসারের কাজ কেবল সরকার নহে, বেসরকারি পর্যায়েও ঘটিয়া থাকে। যেই সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার প্রসারে বিশেষ মান ও অবদান রাখিয়া থাকে, সেই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকার অর্থ প্রদান করে। ইহাকে ইংরেজিতে বলা হয় মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও। মাদ্রাসাসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে জনবল অনুযায়ী এই সহায়তা দেয় সরকার। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহা হইলে সেই মেরুদণ্ড তৈরির কারিগর হইলেন শিক্ষক। সুতরাং এই এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের ন্যূনতম স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ; কিন্তু কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যদি এক জন শিক্ষার্থীও পাবলিক পরীক্ষায় কৃতকার্য না হয়, তাহা হইলে সেই প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বহাল রাখা কি অর্থের অপচয় নহে? ২০২০ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এইবারের ফলাফলে দেখা গিয়াছে, ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেহই পাশ করিতে পারে নাই। ইহার মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রহিয়াছে।

এক জন শিক্ষার্থীও পাশ না করিবার ঘটনা নূতন নহে। গত বত্সরও ১০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেহ পাশ করিতে পারে নাই। এইবার দিনাজপুরের একটি বিদ্যালয়ে দেখা গিয়াছে মাত্র সাত শিক্ষার্থীর কেহই পাশ করিতে পারে নাই। অথচ শিক্ষক রহিয়াছেন ১১ জন! মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে যেই ৪৮টি মাদ্রাসার এক জন পরীক্ষার্থীও পাশ করিতে পারে নাই, তাহার মধ্যে অন্তত ৯টি মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র এক জন করিয়া! সেই এক জনকেও ১১ জন শিক্ষক মিলিয়া পাশ করাইতে পারেন নাই। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০১৮-এর ৭ নম্বর ধারায় স্পষ্ট করিয়া বলা হইয়াছে, বেতন-ভাতার সরকারি অংশ প্রাপ্তির শর্তাবলি মানিতে হইবে। সেই শর্তাবলিতে বলা হইয়াছে, পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ন্যূনতম সংখ্যা প্রতিটি ট্রেডে হইতে হইবে ৩০ জন এবং পাশের ন্যূনতম হার হইতে হইবে ৭০ শতাংশ। এই শর্ত পূরণ না হইলে ২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী এমপিও স্থগিত, কর্তন ও বাতিলকরণ হইবে। বলিবার অপেক্ষা রাখে না, ঐ সকল প্রতিষ্ঠান এই শর্তাবলি পালন করিতে নিদারুণভাবে ব্যর্থ। স্পষ্টতই প্রশ্ন তোলা যায়, এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাখিয়া লাভ কী? বরং এই ধরনের মানহীন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিয়া প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী বড়ো প্রতিষ্ঠানের সহিত এই সকল প্রতিষ্ঠান একীভূত করিয়া দেওয়া যায়। এমন পরামর্শ দিয়াছেন কোনো কোনো শিক্ষাবিদ।

দীর্ঘ সাড়ে ৯ বত্সর অপেক্ষার পর গত বত্সর চার শর্তে এমপিও পাইয়াছে ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠান আবেদন করিয়াছিল এমপিওভুক্তির জন্য। নূতন ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলি বাদে বর্তমানে ২৬ হাজারের কিছু বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রহিয়াছে, যাহাতে ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী কর্মরত। যেই সকল প্রতিষ্ঠানের কেহ পাশ করে নাই, সেইগুলির তুলনায় অনেক নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এইবারও ভালো ফল করিয়াছে। সুতরাং শিক্ষার মান বজায় রাখিতে অর্থের এই অপচয় মানিয়া লওয়া যায় না।