২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ‘প্ল্যানেট নাইন’কে সৌরজগতে পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি ভরের নতুন গ্রহ হিসেবে তাত্ত্বিকভাবে দাবি করেছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। যদিও এটির স্বপক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ এখনো নেই। প্ল্যানেট নাইন কি কোন ‘গ্রহ’ না কি কোন ‘আদিম কৃষ্ণগহবর’ তা নিয়ে অনেকটাই দ্বিধাবিভক্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী মনে করেন, প্ল্যানেট নাইন আসলে একটি আদিম কৃষ্ণগহবর। তবে এবার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আমির সিরাজ এবং তাত্ত্বিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব জানিয়েছেন- রুবিন অবজারভেটরি টেলিস্কোপের সাহায্যে ‘প্ল্যানেট নাইন’ রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
তাদের দাবি তাত্ত্বিকভাবে প্ল্যানেট নাইনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই টেলিস্কোপের সাহায্যে তার থেকে আরো মৌলিকভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে। প্ল্যানেট নাইন সম্পর্কে মৌলিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য তা হবে এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা অর্জন। ‘চিলির লার্জ সিনোপটিক সার্ভে টেলিস্কোপ টিএলএসএসের সাহায্যে সৌরজগতের বাইরের কৃষ্ণগহবরের সন্ধান’ শিরোনামে এই সপ্তাহে প্রকাশিত নিবন্ধ সম্পর্কে অ্যাভি লোয়েব এবং আমির সিরাজি বলেন এই টেলিস্কোপের উন্নত সংস্করণ রুবিন অবজারভেটরি গত দশ বছর ধরে দারুণসব তথ্য জোগাড় করেছে। আশা করা যায়, এই টেলিস্কোপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে আগামী বছরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে প্ল্যানেট নাইন কোনো গ্রহ নাকি কোনো প্রাচীন কৃষ্ণগহবর।
২০১৬ সালের ক্যালিফোর্নিয়ার সেই তত্ত্ব অনুযায়ী ‘প্ল্যানেট নাইন’ কে এতোদিন পর্যন্ত সুপার আর্থ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। নতুন টেলিস্কোপের সহায়তায় এটির অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করা হলে বোঝা যাবে কাইপার বেস্টনিতে: (নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে এবং প্লুটোর কক্ষপথের ভেতরে) গুচ্ছ এবং সারিবদ্ধভাবে বিভিন্ন বস্তু কীভাবে একটি নির্দিষ্ট গতিতে টিকে থাকে।
প্ল্যানেট নাইনকে গ্রহ হিসেবে বিবেচনা না করার একটি বড়ো যুক্তি হচ্ছে, সৌরজগতের প্রান্ত ঘেঁষে থাকা প্ল্যানেট নাইন সূর্য থেকে এতোদূরে অবস্থিত যে তার পক্ষে যথেষ্ট পরিমাণ বস্তু সংগ্রহ করে ‘সুপার আর্থ’ আকারের গ্রহে পরিণত হওয়াটা কঠিন। এ কারণেই ‘প্ল্যানেট নাইন’ গ্রহ তত্ত্বটি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
আবার কোনো কোনো জ্যোতির্বিজ্ঞানী এটিকে আদিম কৃষ্ণগহবর হিসেবে চিন্তা করছেন। কিন্তু আমির সিরাজের মতে, এটি যদি সত্যিই গ্রহ হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে তা কোনো পরিসংখ্যানগত অপ্রত্যাশিত সাফল্য নয়। এটি সম্ভবত একটি গ্রহ-ই; কোনো কৃষ্ণগহবর নয়। কারণ এখন পর্যন্ত সূর্যের আয়তন এবং ভরের চেয়ে ছোটো কোনো কৃষ্ণগহবর সম্পর্কে তাত্ত্বিকভাবেও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কোনো আদিম কৃষ্ণগহবরের কোনো সন্ধানও সৌরজগতে মেলেনি এবং কৃষ্ণগহবর কীভাবে সৃষ্টি হতে পারে সেই ব্যাখ্যাও অস্পষ্ট। কিন্তু সিরাজ মনে করেন, তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে মৌলিকভাবে প্রমাণ করতে পারাটাই বেশি প্রণিধানযোগ্য। ‘দ্য ভেরা সি. রুবিন অবজারভেটরি’ টেলিস্কোপের সেই ক্ষমতা রয়েছে।
এজন্য অ্যাভি লোয়েব এবং সিরাজি অন্য একটি কৌশলেও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে চান—এটি গ্রহ নাকি কৃষ্ণগহবর। সাধারণত বাইরের মেঘজাতীয় বস্তু এবং কৃষ্ণগহবরের মধ্যে সংঘর্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই বিস্ফোরণ হয়। তাদের মতে, যদি সেখানে এই ধরনের বিস্ফোরণের আলো দেখা যায় তাহলে নিশ্চিতভাবেই কৃষ্ণগহবর হিসেবে প্রমাণিত হবে। এর জন্যও তাদের নির্ভর করতে হবে সেই রুবিন অবজারভেটরির ওপরই।-ফোর্বস
