গতকাল শনিবার দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা এক বৃদ্ধ রোগীর ছবি ছাপা হয়েছিল। বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে অবশেষে তিনি মারা গেছেন। ঐ বৃদ্ধের নাম মো. এনায়েত উল্ল্যাহ (৭২)। শুক্রবার বিকালে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করার আগেই হাসপাতালের গেটে ট্রলিতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধের জামাতা আব্দুল কাইয়ুম।
আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘গত ৩০ মে রাতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার বাসার বাথরুমে পড়ে যান তার শ্বশুর এনায়েত। বাসায়ই চিকিত্সা চলছিল তার। দুদিন পর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। দেওয়া হয় অক্সিজেন। ঐ হাসপাতালের অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেওয়ায় নতুন হাসপাতাল খুঁজতে হয় তাদের। অসুস্থ শ্বশুরকে একটি গাড়িতে নিয়ে বের হন তার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ, মেয়ে ও জামাতা। কাইয়ুম বলেন, ‘ঐ হাসপাতাল থেকে তারা সানারপাড়ের একটি হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গাড়িতে রোগী রেখেই একজন নার্স তাপমাত্রা মেপে দেখেন ১০০ ডিগ্রি। উনারা রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা মেডিক্যালে নিতে বলেন। শুক্রবার ঢামেক হাসপাতালে টিকিট কাটার পর রোগীকে করোনা ইউনিটে নিতে বলা হয়। আমরা বারবার বলছি, উনার করোনা নেই। পড়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। ডাক্তার আমাদের কোনো কথাই শোনেননি। পরে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।’
কাইয়ুম বলেন, ‘ভর্তির সব কাজ প্রায় শেষ, কিন্তু ঢামেকের টিকিটে করোনা সাসপেক্টেড দেখে উনারা ভর্তি নিলেন না। তখন তারা মুগদা জেনারেল হাসপাতালে যান। অনেক অনুরোধে রাজি হলেও টিকিটের নিচে লিখে দেয়, ‘করোনা প্রতিবেদন না থাকা সত্ত্বেও এই হাসপাতালে ভর্তি করাতে ইচ্ছুক। পরে করোনা নেগেটিভ হলে অথবা মারা গেলে সরকারি নিয়ম অনুসারে লাশ আঞ্জুমান মুফিদুলে হস্তান্তর করতে রাজি আছি।’ এই শর্তে রাজি না হয়ে আমরা রোগীকে ফের গাড়িতে বসানো মাত্রই তার মৃত্যু হয়।
