কেরানীগঞ্জে কদমতলী এলাকা থেকে ট্রাক ও বাস থেকে চাঁদা তোলার সময় গত শুক্রবার রাতে হাতেনাতে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। চাঁদাবাজ ঐ যুবলীগ নেতার নাম ফরিদ আলী। তার বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মোট ১১টি মামলা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানায়। চাঁদাবাজ ফরিদ আলী গ্রেফতার হাওয়ায় গতকাল শনিবার কদমতলী ও ডাকপাড়া এলাকায় গাড়িচালকরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ জামান ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, ‘যুবলীগ নেতা ফরিদ আলী দীর্ঘদিন ধরে বাস ও ট্রাক থেকে অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলে আসছিলেন। গতকাল তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও ট্রাক-মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তিনটি মামলা করা হয়েছে।’
গাড়িচালকরা জানান, ‘ফরিদ ২০ থেকে ২৫ জন যুবলীগের সদস্য নিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রায় প্রতিদিন ৩০০ ট্রাক, ২০০ বাস ও ৫০০ সিএনজি থেকে হাজার হাজার টাকা চাঁদা তুলে আসছিলেন। ফরিদ আলীর ছোটো ভাই রমজান আলী কেরানীগঞ্জ থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক। তাদের দাপটে এলাকার গাড়িচালকরা ভয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রবীণ এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ‘চাঁদাবাজ ফরিদ আলী ২০০৮ সালের আগে জিনজিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখনো চাঁদাবাজি করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হাত ধরে যুবলীগে যোগদান করে ফের চাঁদাবাজিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন তিনি।’
