দুর্গম পাহাড়ের এক প্রসূতি মায়ের প্রাণ বাঁচাতে ছুটে গেল সেনাবাহিনী

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১৬

সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীলতায় বেঁচে গেল রাঙ্গামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার বগাখালী গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা সোনাপতি চাকমা। গত রবিবার পুরো জাতি যখন ভোট উত্সবে মাতোয়ারা ঠিক সেই সময় প্রসব বেদনা শুরু হয় সোনাপতির। সন্তান প্রসবের জন্য স্থানীয় ধাত্রীর সহযোগিতা নেয় তার পরিবার। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পৃথিবীর আলো দেখার আগে মাতৃগর্ভেই মারা যায় সোনাপতির সন্তান। উপায়ান্তর না দেখে সোমবার তার পরিবার বিজিবির স্থানীয় সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে সোনাপতির জীবন বাঁচানোর জন্য আকুতি জানায়। এরপর বিজিবি সদস্যরা দ্রুত বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানান। সেনাবাহিনী বিমানবাহিনীর সহযোগিতায় একটি হেলিকপ্টারযোগে দুপুরের মধ্যেই সোনাপতিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ সিএমএইচে ভর্তি করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অস্ত্রোপচারের পর বিপদমুক্ত হয় সোনাপতি চাকমা। গর্ভের শিশু মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে যায় সোনাপতি চাকমা।

জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুম্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শান্তিরাজ চাকমা ইত্তেফাককে বলেন, সোনাপতি আমার এলাকার মেয়ে। আমাদের এলাকায় ভালো কোনো হাসপাতাল না থাকায় তার গর্ভের সন্তানটিকে বাঁচাতে পারিনি। তবে সেনাবাহিনীর কারণে তার মার প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। সেনাবাহিনীকে সময়মতো জানাতে পারলে হয়তো মা ও সন্তান দুজনকেই বাঁচানো যেত।

জানা গেছে, সোনাপতিই শুধু নয়, তার মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী অনেক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বেঁচেছে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে। এদের মধ্যে রয়েছে পায়ে পচন ধরা বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের সদস্য চাথুইমা মারমা, লক্ষ্মীছড়ি থানার পুলিশ কনস্টেবল মংজয় চাকমা প্রমুখ। সমপ্রতি খাগড়াছড়ির দুরছড়ি এলাকায় ডায়রিয়া দেখা দিলে সেনা সদস্যরা মানবিক সহযোগিতা দিয়ে প্রায় ৩০টি পরিবারের সদস্যদের সুস্থ করে তোলে।

উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি জেলা সদর থেকে ওই গ্রামে যেতে হলে প্রথমে ইঞ্জিনচালিত বোটে কিছু দূর যাওয়া যায়। এরপর পায়ে হাঁটা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ওই গ্রামেরই এক তরুণীর নাম সোনাপতি চাকমা। বছরখানেক আগে দয়াময় চাকমা নামে এক যুবকের সাথে বিয়ে হয় সোনাপতির। বগাখালী গ্রাম বা এর আশেপাশে কোথাও ভালো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। গর্ভধারণের সময় নারীদের যে ধরনের সেবা শুশ্রূষা পেতে হয়, তার কিছুই পায়নি সে। তাই জুরাছড়ি উপজেলায় একটি আধুনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।