সিলেট ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত

সাবেক সিসিক মেয়র কামরানের অবস্থার অবনতি, ঢাকায় প্রেরণ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ২০:০৯

সিলেট বিভাগে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা রোগী। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ইতোমধ্যে সিলেটের চার জেলাকেই করোনার ’রেড জোন’ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ জন। এরা সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা। অপরদিকে, গত-দিনে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এর মধ্যে দুইজন সিলেটের ও অপরজন সুনামগঞ্জের। 

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শহীদ ডা. শামসুদদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিলেট সিটি করপোরেশন সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটনায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে। রবিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কামরানের পুত্র ডা. আরমান আহমদ শিপলু। তিনি জানান, বিকেলে  বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে তাকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।  এদিকে তার সুস্থতা কামনা করে নগরীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। 

শামসুদ্দিন হাসপাতালের আরএমও ডা.সুশান্ত মহাপাত্র বলেন, তার শরীরে রক্ত চলাচল একটু কমে গেছে, অক্সিজেনের পরিমাণও বেশি লাগছে। তাই তাকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত শুক্রবার ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে কামরানের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়। শনিবার সকালে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এরআগে গত ২৭ মে কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনি বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ।

বিভাগে আক্রান্ত প্রায় দেড়হাজার: সিলেট ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সিলেট জানায়, ৭ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত  বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৭৭। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৮৪৭, সুনামগঞ্জে ২৭০, হবিগঞ্জে ২০৮ ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৫২ জন। এদিকে, সিলেট বিভাগে করোনামুক্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন।  এর মধ্যে সিলেটে ২, সুনামগঞ্জে ৪,  হবিগঞ্জে ৩ ও মৌলভীবাজারে ৬ জন।

এদিকে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণে সিলেট ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। তার পরও নগরের রাস্তায় আধা কিলোমিটার জুড়ে যানজট পরিলক্ষিত হয় রবিবার। শারীরিক দূরত্ব নেই। বেশিরভাগ মানুষের মুখে নেই মাস্ক। তোয়াক্কা নেই স্বাস্থ্যবিধির। রাস্তায় মানুষের ভিড় জমে স্বাভাবিক অবস্থার মত। সিলেট জেলায় গতকাল মাত্র একদিনে করোনায় আক্রান্ত হন ৬৪ জন, প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন। কিন্তু কোনো সতর্কতা নেই  লোকজনের মধ্যে। 

বন্দরবাজার থেকে  কুদরত উল্লাহ মার্কেট পর্যন্ত- রাস্তায় তীব্র যানজট। প্রাইভেট কার, সিএনজি অটোরিকশা, রিক্সার লম্বা লাইন। সচেতন মানুষেরা মনে করেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে খুব দ্রুত সিলেটে প্রতি ঘরে করোনা রোগীতে ভরে যাবে।  কিছু কিছু মার্কেটে স্যানিটাইজিং এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও অনেক মার্কেটে তা নেই।

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের উদ্যোগ নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে চিহ্নিত করা হয়। তালিকায় সিলেটসহ দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে পুরোপুরি লকডাউন (রেড জোন বিবেচিত) দেখানো হচ্ছে। সিলেট বিভাগের চার জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারকে বলা হচ্ছে পুরোপুরি লকডাউন করা হবে । তবে সিলেট জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন দুপুর পর্যন্ত তাদেও এ সম্পর্কে কোন নির্দেশনা আসেনি।

ইত্তেফাক/আরএ