ভোটের দিন নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন তিনটি কেন্দ্রে হাঙ্গামা ও আনসার সদস্যকে হত্যা করে ভোট গ্রহণ স্থগিত এবং অপর একটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় কয়েকশত লোকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ভিন্ন ভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনে ভোট গ্রহণ চলাকালে বেগমগঞ্জের বাবু নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, খাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং তুলাচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কয়েকশত লোক অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদেরকে মারধর ও ব্যালট বাক্স ভাঙচুর করলে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়। তুলাচারা কেন্দ্রে হামলাকারীরা নূরনবী হেঞ্জু নামে এক আনসার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে। অপর দিকে, নরোত্তমপুর সুরুজ মিয়ার স্কুল কেন্দ্রে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বহনকারী মিনিবাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ নূরে আলম জানান, সুরুজ মিয়ার স্কুল কেন্দ্রে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫/৬ শত অজ্ঞাত লোককে আসামি করে এবং বাবুনগর কেন্দ্রের ঘটনায় ৫০/৬০ জনকে আসামি করে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। খাঁনপুর ও তুলাচারা কেন্দ্রের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিতাসে পোস্টার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে আহত কিশোরের মৃত্যু
তিতাস (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লা-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পোস্টার লাগাতে গিয়ে বিদ্যুত্স্পৃষ্টে আহত হয়ে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে মো. আরিফ (২০) নামে এক কিশোর। সোমবার রাত ৮টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে সে মারা যায়। গত ২৫ ডিসেম্বর বিকালে উপজেলার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের কড়িকান্দি বাজারে বিদ্যুত্ষ্পৃষ্টে সে আহত হয়।
নিহত কিশোর মো. আরিফ (২০) পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর গ্রামের মোঃ কবির হোসেনের ছেলে। সে কড়িকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার ভাগিনা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় কড়িকান্দি মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. মহসীন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবু ইউসুফ, লিয়াকত হোসেন, মোস্তফা আহমেদ মোস্তাক, সাইদুর রহমান ভূঁইয়াসহ এলাকায় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গৌরীপুর-হোমনা সড়কের উপরে আড়াআড়িভাবে পোস্টার লাগাতে গিয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুেতর মূল লাইনের তারে জড়িয়ে মারাত্মক আহত হয়। নির্বাচন উপলক্ষে কড়িকান্দি বাজারে অবস্থিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসের দায়িত্বপালন করছিল সে।
