যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লয়েডের মৃত্যু পরিবর্তন আনবে!

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ২০:২৫

তালেব রানা

 

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে টানা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। এখন পর্যন্ত ৭৫টির বেশি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এমনকি ছোটো ছোটো শহরেও মানুষকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। প্রথমদিকে বিক্ষোভে পুলিশের সদস্যরা বর্বরভাবে বল প্রয়োগ করে। যে কারণে ব্যাপক সহিংসতা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, বিক্ষোভ চলাকালে ১২ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত তিন-চার দিন ধরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হচ্ছে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে লাখ লাখ মার্কিনী।

গত ২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়েপোলিস শহরে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নিহত হন। টানা বিক্ষোভের মুখে ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনায় বরখাস্ত হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপরও বর্ণবাদ অবসানে বিক্ষোভ চলছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার—বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে বিশ্বের অনেক দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।  

শনিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরকারের আপত্তি সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এবং জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বড়ো শহরগুলোতেও। সিডনির একটি আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর বিক্ষোভ হয় ব্রিসবেনে। জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়েছে। বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে সাইপ্রাসে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সামনে। বিশ্বজুড়ে বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদে কানাডায় আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ওয়াশিংটন ডিসি মেয়র মুরিয়েল ব্রাউজার হোয়াইট হাউজের সামনের রাস্তার নাম পরিবর্তন করে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার প্লাজা করেছেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশের নৃশংসতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে মারা গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষ। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি মারা যায় কৃষ্ণাঙ্গরা। এই বর্ণবাদী আচরণ, কালোদের প্রতি অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সমাজের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার ঘটনায় সেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মিনিয়েপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েডের প্রথম স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্মরণসভায় ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের নীরবতা পালন করা হয়। এই ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড সময় ধরে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে রেখে তাকে হত্যা করেছিল পুলিশ কর্মকর্তা। মিনিয়েপোলিসের নর্থ সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ঐ সভায় ফ্লয়েডের আইনজীবী বেঞ্জামিন ক্রাম্প বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে তার মৃত্যু হয়নি। বরং বর্ণবাদের মহামারিতে মৃত্যু হয়েছে। স্মরণসভায় শত শত মানুষ সমবেত হয়। সেখানে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মী রেভ আল শার্পটন বলেন, ফ্লয়েডের সঙ্গে যা হয়েছে তা এদেশে প্রতিদিন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ আমেরিকান জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রেই ঘটে। উঠে দাঁড়ানোর সময় এখন। আমাদের ঘাড় থেকে আপনাদের হাঁটু সরান—এ কথাটি বলার সময় এখন। গত কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড়ো প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এর মাধ্যমে বিশ্বে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বড়ো পরিবর্তন আসবে।