চেকোশ্লাভাকিয়ার এক বড়ো শহর প্রাগ। একদিন সেই শহরের ইহুদি এলাকা ভীষণ আক্রান্ত হয়। শত্রুরা নাগাড়ে মেয়েদের সঙ্গে মন্দ ব্যবহার করে ও বাচ্চাদের আগুনে ছুড়ে মারে। মারা যায় শহরের অনেক মানুষ। আচমকা ঐ এলাকায় একজন ধর্মযাজক হাজির হন। হাতে এক পবিত্র বই। হঠাত্ তাঁকে একজন শিক্ষকের বাড়ির সামনে একতাল কাদায় মূর্তি গড়তে দেখা যায়। একটু পরে স্পষ্ট হয় মূর্তি গোলেমের নাক। ধর্মাবতার তাঁর কানে মন্ত্র পড়েন। মন্ত্রচালিত মানুষ গোলেম শত্রুদলকে কচু-কাটা করে। চারদিকে শুধু আহত মানুষ।
প্রাগে কেবল মরা মানুষ। গোলেম শত্রু মারছে তো মারছেই। এমন সময় ইহুদি সর্দারের চিত্কার, ‘মহামান্য ধর্মযাজক, এমনটা চললে উপাসনার দিন প্রদীপ জ্বালাবার জন্য কোনো ইহুদি খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
ধর্মযাজক গোলেমের মুখোমুখি হন। তিনি আরেকবার গোলেমের কানে মন্ত্র পড়েন। এক পলকে তাঁর শরীর থেকে আত্মা বাতাসে মিলিয়ে যায়। কী আশ্চর্য! অলৌকিক মানুষ গোলেম সেই মাটির মূর্তি। শেষমেষ গোলেম হত্যা বন্ধ করে।
সেই থেকেই ইহুদি মন্দিরের চিলেকোঠায় মাকড়সার জালে গোলেমের বসতি। কেবল ধর্মযাজকের নাতি জিভিই গোলেমের খবর জানত।
ইহুদিরা আজো গোলেমকে ভোলেনি। বিপদেই শুধু তাঁর দেখা মেলে। অন্য সময় মাকড়সার জালে গোলেম বেশ আছে।
স্রষ্টার ইচ্ছায় গোলেমের এমন ছদ্মবেশ।
রূপান্তর : কুতুব আজাদ
