করোনা মহামারি ঠেকাতে দায়ী আক্রান্ত ২০ ভাগ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ২৩:০১

কোভিড-১৯-এ গতকাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭০ লাখের বেশি। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বদলে গেছে গোটা পৃথিবীর চালচিত্র। করোনা ভাইরাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রবল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগকে মহামারির চালিকাশক্তি জোগান দিচ্ছে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তদের মধ্যে ২০ ভাগ মানুষ। এরাই মূলত বাকি ৮০ ভাগ মানুষকে আক্রান্ত করছেন। বিজ্ঞানীরা এই ২০ শতাংশ মানুষকে ‘সুপার স্প্রেডার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। হংকংয়ের একদল বিজ্ঞানী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এ তথ্য দিয়েছেন।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্তের ৭০ শতাংশ মানুষ       অন্যদের আক্রান্ত করেনি। আক্রান্তদের মধ্যে এই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কাউকে আক্রান্ত না করার পরও মহামারি বেগবান হওয়ার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে গবেষকেরা দেখেছেন, গড়ে ২০ শতাংশ মানুষ আরো প্রচুর মানুষকে আক্রান্ত করার জন্য দায়ী। অর্থাত্, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি সংঘটিত হচ্ছে।

গবেষণা দলটি ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হংকংয়ে আক্রান্ত ১ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে। এই ১ হাজার মানুষের ‘কন্ট্রাক্ট ট্রেসিংয়ের’ মাধ্যমে এরা কাদের সংস্পর্শে গিয়েছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করতে গিয়ে গবেষকেরা তাদের চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ চিত্র দেখতে পান; গড়ে ৮০ শতাংশ মানুষকে আক্রান্ত করেন মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ! হংকংয়ের ঐ গবেষণায় ৭০ শতাংশ মানুষ অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে কোনো ভূমিকা রাখে না। আর বাকি ১০ শতাংশ আক্রান্ত হন আক্রান্তদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব কিংবা কর্মস্থলের সহকর্মীর মাধ্যমে।

এই ২০ শতাংশের জন্য করোনা ভাইরাসের ‘আর’-এর মান (এক জনে অন্যকে আক্রান্ত করার হার) অনেক বেশি থাকে। এই ‘আর’-এর মান দুই থেকে তিন হলেই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনাটা খুবই কঠিন। কিন্তু যদি ‘আর’-এর মান ০১-এর নিচে আনা যায়, তাহলে ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার কমতে কমতে মহামারি একসময় নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।—ডেইলি মেইল