আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী আমেরিকায় প্রতি বছর পুলিশের হাতে মারা যায় ১ হাজার ২০০ মানুষ। কিন্তু ৯৯ শতাংশ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয় না। মিনেসোটায় পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে যে ব্যাপক প্রতিবাদ ও দাঙ্গা হয়েছে তাতে গণচাপের মুখে এবার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। খবর বিবিসির
পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা
‘খুবই বিরল’
পুলিশের সহিংস আচরণের খতিয়ান পর্যবেক্ষণকারী একটি প্রকল্পের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত আমেরিকায় পুলিশের হাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৬৬। এর মধ্যে মাত্র ৯৯টি ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যা মোট হত্যার ঘটনার মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে মাত্র ২৫টি ঘটনায় পুলিশ দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। ওয়াশিংটনে কেটো ইনস্টিটিউটের ফৌজদারি বিচারবিষয়ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লার্ক নেইলি বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কৌঁসুলিদের ফৌজদারি মামলা দায়েরের ঘটনা ‘খুবই বিরল’। ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনা সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তিনি বলেছেন, এর কারণ পুলিশ এবং কৌঁসুলি দুজনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অংশ। তারা পরস্পরের সহযোগিতায় কাজ করে। অপরাধের সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং মামলার সময় আদালতে সেগুলো পেশ করার ব্যাপার কৌঁসুলিরা পুলিশের ওপরই নির্ভর করেন। তাদের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ ব্যবস্থায় ‘ফৌজদারি মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। এছাড়াও শক্তি প্রয়োগের অধিকার আইনত পুলিশকে দেওয়া আছে। আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষায় অথবা অন্য কারো মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়া ঠেকাতে পুলিশ শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
মামলা থেকে সুরক্ষা
পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ক্ষেত্রে আইনি রক্ষাকবচ থাকায় পুলিশি বর্বরতার শিকার মানুষের জন্য একটাই পথ খোলা থাকে। সেটা হলো—দেওয়ানি আদালতে মামলা আনা। নেইলি বলছেন, বাস্তবে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা আনার জন্য দেওয়ানি আদালতের দরজা বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে। কারণ এক্ষেত্রে ‘বিশেষ রক্ষাকবচের’ নীতি তুলে ধরার রেওয়াজ আছে। তিনি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্তের সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত অধিকার বলে আইনের নথিতে যদি কিছু লিপিবদ্ধ না থাকে, তাহলে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন একরকম অসম্ভব। এর চেয়েও বেশি কঠিন এ ধরনের মামলা দায়ের করা সম্ভব হলেও ক্ষতিপূরণ আদায়।
জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনার ন্যায়বিচার
নেইলি বলেন, পুলিশের জন্য যে সুনির্দিষ্ট রক্ষাকবচ রয়েছে তার কারণে ফ্লয়েডের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হতে পারে। তারা দেখবে আদালতে এমন কোনো মামলার নজির আছে কি না, যেখানে কারো মেরুদণ্ডের ওপর ৯ মিনিট ধরে হাঁটু দিয়ে চেপে বসে থাকা, যতক্ষণ না সে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে এবং পরে মারা যাচ্ছে। এমন ঘটনা অসাংবিধানিক বলে বিবেচিত হয়েছে। এমন নজির যদি না থাকে, তাহলে সুনির্দিষ্ট রক্ষাকবচের সংজ্ঞা অনুযায়ী আপনি পুলিশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন না। কারণ এমন কোনো ঘটনা আইনত নথিভুক্ত নেই। আমেরিকার জাতীয় পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
