জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের ছেলে ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রাহগির আল মাহির (সাদ এরশাদ) উপর হামলার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে জাপার কেন্দ্রীয় ও রংপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার চিফ প্যাট্রন রওশন এরশাদের পুত্র সাদ দম্পতি রংপুরের বাড়ি ‘পলস্নীনিবাস’-এ আক্রান্ত্ম, তাও আবার দলের স্থানীয় কয়েক নেতা-কর্মীর হাতেই। বিষয়টি মানতে পারছেন না রওশন এরশাদের অনুসারীরা।
অন্যদিকে, ঘটনার জন্য পরোড়্গভাবে সাদ ও তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে দুষছেন জাপার মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর জাপার সভাপতি মোসত্মাফিজার রহমান মোসত্মফা। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্ত্মব্য করেননি জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এমনকি সাদের মা রওশনও এখন পর্যন্ত্ম আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দেননি।
ডিও লেটারে (চাহিদাপত্র) স্বাক্ষর না করায় এমপি সাদ এরশাদের ওপর ২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পলস্নীনিবাসে হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড জাপার সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতানকে ঐদিনই আটক করে পুলিশ। টিপুকে ছেড়ে দিতে রংপুর সিটি মেয়র মোসত্মফা ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলে পরে টিপুকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ঘটনার পরদিন পলস্নীনিবাসে সংবাদ সম্মেলনে সাদ এরশাদ অভিযোগ করে বলেন, ‘রংপুরের উন্নয়ন বাধাগ্রসত্ম করতে দলের সুবিধাবাদী নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে। বাবা এরশাদের সুনাম ক্ষুন্ন করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে।’ সংবাদ সম্মেলনে সাদের স্ত্রী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার গায়ে হাত দিয়েছে। এসময় তিনি গায়ে থাকা ছেঁড়া জামাও দেখান স্থানীয় সাংবাদিকদের।
এদিকে সাদ দম্পতির ওপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে দলটির রওশন এরশাদের অনুসারীরা। সমাবেশে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা সাদের উপর হামলায় পার্টির শীর্ষনেতারা নীরব কেন জানতে চান। এ ঘটনায় শীর্ষনেতারা জড়িত কি-না তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা। শনিবারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের বিক্ষোভে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জাপা নেতা কাজী মামুনুর রশীদ, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ইকবাল হোসেন রাজু, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, নুরুল ইসলাম নুরু, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান ও রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, এরশাদের পল্লীনিবাসে তারই ছেলে ও পুত্রবধুর ওপর হামলা প্রকারান্তরে এরশাদ ও জাপার ওপরই আক্রমণ। কাজী মামুন বলেন, আমরা এ ঘটনা বরদাশত করব না। পার্টির চেয়ারম্যান-মহাসচিবের নিরবতায় আমরা লজ্জিত। তাদের মধ্যে মামুন, খালেদ ও জাহাঙ্গীরকে পার্টির কাউন্সিলের পর প্রেসিডিয়াম থেকে বাদ দেন জিএম কাদের; অন্যদেরকেও পার্টির কোনো পদে রাখা হয়নি।
গতকাল রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘ঘটনাটি মীমাংসিত ও রংপুরের বিষয়। এনিয়ে পার্টি চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কাছে কেউ কোনো অভিযোগও করেননি। বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি টেলিফোনে আমাকে এবং চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে আমরা তত্ক্ষণাত্ ব্যবস্থা গ্রহণ করি। যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করছে- জাপা তাদের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
