এক দিনে সর্বোচ্চ ৪২ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ২৩:১৭

একদিনে রেকর্ড ৪২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৮৮ জন। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ হাজার ৭৪৩ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৭৬৯ জন। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো ৫৭৮ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ১৩ হাজার ৯০৩ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।

নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা রবিবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। এদিকে এবার করোনা ভাইরাস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিনের। তিনি প্রায় এক মাস ধরে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছেন। রবিবার বিকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার দশ               দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। ৩১ মে ৪০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, এতদিন সেটাই ছিল এক দিনের সর্বোচ্চ। নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। তাদের মধ্যে ৩০ জন হাসপাতালে এবং ১২ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের, ২ জন রাজশাহী বিভাগের, ২ জন খুলনা বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ৪২ জনের মধ্যে এক জনের বয়স ছিল ৯০ বছরের বেশি। এছাড়া ৩ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

বুলেটিনে জানানো হয়, সারা দেশে ৫৫টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৫২টি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা পরীক্ষার তথ্য এসেছে। নতুন দুটি পরীক্ষাগার হল ঢাকার সিএসবিএফ হেলথ সেন্টার ও গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ। নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি পরীক্ষাগারে ১৩ হাজার ১৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯৮৭টি। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ।