করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বড়ো অঙ্কের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তবে এই প্রণোদনার আওতায় ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকগুলো যথাযথভাবে এগিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে শেষ পর্যন্ত এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য সফল হওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রণোদনা প্যাকেজ তদারকিব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এ লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পরামর্শ দেন। বিশেষত এ সময়ে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে মানুষের মধ্যে হারানো ‘আত্মবিশ্বাস’ পুনরুদ্ধারে বিশেষ মনযোগ দেওয়ারও পরামর্শ দেন তারা। অন্যদিকে সংকটের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, বিদ্যমান ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা গেলে এই সম্ভাবনা ধরতে পারবে বাংলাদেশ।
রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবন থেকে ওয়েবিনার পরিচালনা করেন সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই বাসা কিংবা দপ্তর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। এতে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অর্থনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধি ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চার জন মন্ত্রী অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বড়ো প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ সুবিধায় এগিয়ে থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যাংকের নানা ধরনের নিয়ম ও নীতিমালার কারণে তারা এই সুবিধার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। প্রণোদনার সুবিধায় তাদের কার্যকর অন্তর্ভুক্তকরণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রণোদনার আওতায় ঋণের সুদহার পাঁচ শতাংশ কমিয়ে আনার আহ্বান জানান। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, চীন থেকে আমেরিকাসহ কিছু দেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। বন্দর, অবকাঠামো এবং জমির সমস্যা সমাধান করা গেলে বাংলাদেশের সামনেও এই ব্যবসা ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, অর্থনীতির স্বার্থে স্বাস্থ্য খাতে আত্মবিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে। করোনার এই সংকট দেখিয়েছে, স্থানীয় শিল্পও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকায় জাতিসংঘের মিশন প্রধান মিয়া সেপ্পো এফবিসিসিআই পরিচালক মুনির হোসেন প্রমুখ।
