মানবসেবাই পরম ধর্ম

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৫

উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত নিয়েই সমাজ। আর এদের মধ্যে থাকে নানান ভেদাভেদ যেমন জাতিগত, বংশগত, বর্ণগত, অবস্থানগত ইত্যাদি। এই শ্রেণিগুলো সমাজের মানুষই তৈরি করে। ধনী-গরিব বৈষম্য! এটা নতুন কিছু নয়—এটা ছিল, আছে এবং থাকবে। এটা নিরসন করতে হলে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। এক শ্রেণির মানুষ টাকার পাহাড় গড়বে আর আরেক শ্রেণির মানুষ চরম ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হবে! দিন দিন ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে কিংবা ধনী হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে আর গরিবরা সেই গরিবই থেকে যাচ্ছে। একজন কৃষক সারা জীবন ফসল ফলিয়ে সেই কৃষকই থেকে যাচ্ছে আর তার খেটে খাওয়া চালের ভাত খেয়ে কেউ সেরা ধনীর তালিকায় নাম লেখাচ্ছে।

একটা দেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে হলে ধনী-দরিদ্রের সমান উপস্থিতি প্রয়োজন। বাংলাদেশে রয়েছে ধনী-গরিবের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য। আমার প্রশ্ন—কেন সমাজে এরকম বৈষম্য বিরাজ করবে? কেন গরিবের কি অধিকার নেই ধনীদের ওপর? যদি রক্তে-মাংসে সব মানুষ গড়া হয়ে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বৈষম্য তৈরি হবে কেন? আর যদি তৈরি হয়েই থাকে তার সমাধান খোঁজা হচ্ছে না কেন? সমাজে বিত্তবানরা এদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না কেন? যদি বিত্তবানরা এই অসহায় গরিবদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে গরিবরা সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে, বাড়বে দরিদ্রদের সাহস, সমাজকে নিয়ে যাবে এগিয়ে।

মানবসেবাই পরম ধর্ম—কথাটা প্রত্যেককে আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা যায় যে, একজন দুঃস্থের পাশে এসে দাঁড়ালে আপনার কিছু কমে যাবে না। অর্থ ক্ষণিকের কিন্তু আপনার সেবা স্মরণীয় হয়ে থাকবে তাদের মনে আজীবন। আর আপনার সহযোগিতায় একজন গরিব হয়ে উঠতে পারে স্বাবলম্বী। আর এটা বৈষম্যহীন এক সমাজে পরিণত করবে। যার ফলে শুধু সমাজই নয় আস্তে আস্তে সারা দেশের মানুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকবে না। অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে, দারিদ্র্যবিমোচন হবে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে আর তা দেশকে এগিয়ে নেবে। আর তাই সমাজে ধনীরা দাঁড়াক গরিবদের পাশে। তাহলে বদলে যাবে সমাজ, বদলে দেবে দেশ।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়