দেড় লাখের বেশি টাকা যৌতুক দিতে না পারায় শাহিনূর আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূকে স্বামীর পবিবার থেকে মেরে গভীর রাতে বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শাহীনূরের স্বামী অফিকুল ইসলাম (৩০) উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বাজারহাটি গ্রামের মো. নবী হোসেনের ছেলে। অফিকুল তার বাড়ির পাশে কৃষ্ণপুর বাজারে সেলু মেশিন যন্ত্রাংশের ক্ষুদ্র ব্যবসা করেন।
শাহীনূর এখন খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে তার দিনমজুর বাবা দুলাল মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে স্বামীর ভরণ-পোষণহীন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
সোমবার (৮ জুন) সকালে দৈনিক ইত্তেফাককে শাহীনূর জানান, প্রেম করে তিন বছর আগে তার বিয়ে হয় অফিকুল ইসলামের সঙ্গে। বিয়ের কয়েক দিন পর অফিকুলকে ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে যৌতুক হিসেবে। বছর খানেক যাবার পর অফিকুল
আবারও যৌতুক নেয় ৭০ হাজার টাকা। এসব যৌতুক দিয়ে বিয়ের প্রথম বছরটি স্বামীর সংসারে মোটামোটি ভালই কাটছিল তার। কিন্ত দুদফা যৌতুক নেয়ার কয়েক দিন পর ফের যৌতুক নিতে অফিকুল চাপ প্রয়োগ করলেও শাহীনূর তখন যৌতুক
দিতে অপারগতা পোষণ করেন। সেই থেকে বিভিন্ন সময় টুঙ্কু বিষয়েও শাহীনূরকে তার স্বামীর পরিবারের লোকজন করছিল শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন। গত আড়াই মাস আগে এ নির্যাতনের মাত্রা পৌঁছে চরম পর্যায়ে। তখন স্বামীর দাবি
অনুযায়ী দুই লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে না পারায় অফিকুল ও অফিকুলের বাবা, মা, ভাই বোন মিলে পিটিয়ে গভীর রাতে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় শাহীনূরকে। পরে ৮ মাস বয়সি একমাত্র ছেলেটিকে নিয়ে রাতেই শাহীনূর তার বাবার
বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।
স্বামী সংসার থেকে বের করে দেবার পর দিন এসব অভিযোগ জানাতে খালিয়াজুরী থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হকের কাছে গেলে ওসি শাহীনূরকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু চলতি করোনা পরিস্থিতির কারণে আদালতে গিয়ে
মামলা করতে পারছেন না বলেও জানান শাহীনূর।
এসব অভিযোগ বিষয়ে শাহীনূরের স্বামী অফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যৌতুক নেইনি, চাইনি এবং শাহীনূরকে কোন রকম নির্যাতনও করিনি। উল্টো শাহীনূর আমাকে ও আমার পরিবারকে অসম্মান আর অবহেলা করেছে।
ওসি মাহমুদুল হক জানান, মাস দুয়েক আগে শাহীনূর থানায় এসেছিলেন তার ভরণ-পোষণ ও সংসার রক্ষা করে দেবার দাবি নিয়ে। পরে তাকে আদালতে যাবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি

