শীতবস্ত্র বিতরণে চাই স্বচ্ছতা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৬

এ বছরও শীতের বস্ত্র বিতরণ করা হবে। শীতের বস্ত্র সাধারণত গরিব, অসহায়, অসচ্ছল, প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে  বিতরণ করা হয়ে থাকে।  প্রচণ্ড শীতের প্রকোপ থেকে  প্রতিবছর গরিবদের  সরকার শীতবস্ত্র বিতরণ দিয়ে থাকে। মাঝে মাঝে দেখা যায় শীতের বস্ত্র বিতরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি। এইসব বস্ত্র প্রভাবশালীদের দায়িত্বে থাকায় বিক্রি করে দেয় বিভিন্ন দোকানে। ফলে অসহায় বস্ত্রহীনদের শীতের মাসে কষ্টের সীমা থাকে না। তাঁদের কাছে জিজ্ঞাসা করতে গেলে চোখ গরম দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে দেয়।  কষ্টভরা মন নিয়ে সমাজে যাঁদের কাছে নালিশ দেবে তাঁদেরও টাকা দিয়ে হাত করে ফেলেন প্রভাবশালীরা।  নালিশ দেবার পথ বন্ধ হয়ে যায়। শীতের দিন-রাত কাটে কষ্টে কষ্টে। শীতের বস্ত্র না পাওয়ায় প্রচণ্ড শীতের তিনটি মাস খড়কুটা দিয়ে রাত পোহায় এবং দিনের বেলায় শরীর গরম করার জন্য  সূর্যের আলোর জন্যে চাতক  পাখির মতো তাকিয়ে থাকে—কখন সূর্য মিষ্টি রৌদ্র দেবে?

আমরা জানি শীতবস্ত্র বিতরণ করা একটি জনসেবামূলক কাজ। তাই এই জনসেবামূলক কাজের জন্য সত্ ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে হবে, যাতে সততার সঙ্গে কাজ করতে পারে। এতে সমাজের অসহায়, সাহায্যহীন, সর্বহারা, হতাশাগ্রস্ত মানুষের সেবা করতে পারে।  এইসব কাজের জন্যে ইতিহাস সাক্ষী—যে কোনো জনসেবামূলক কাজে যে জাতি যত বেশি সক্রিয় সেই জাতির ঐক্য, জাতীয়তাবোধ এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে তত বেশি। এক্ষেত্রে দেশ ও জাতির সার্বিক অগ্রগতির জন্যে কাউকে না কাউকে সমাজসেবার মহত্ ব্রত নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তাই প্রতিটি জেলার প্রশাসকের দৃষ্টি থাকবে— বস্ত্রহীনদের প্রতিটি বস্ত্র সঠিকভাবে বিতরণের ব্যবস্থার দিকে। 

সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ, মাদারীপুর