করোনা ভাইরাসের কারণে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলছে ঘোষিত বা অঘোষিত লকডাউন। বলা যায়, আমরা এক প্রকার বাধ্য হয়েই মেনে নিচ্ছি লকডাউন পরিস্থিতি। এমন পরিবেশে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় বাড়িতে দৌড়ঝাঁপ করছে আমাদের শিশুরা। দিনের পর দিন টানা ২৪ ঘণ্টা তারা বাড়ির চার দেয়ালের মধ্যেই বন্দি। আর এমন অবস্থায় শিশু বিশেষজ্ঞরা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষ যত্ন প্রসঙ্গে অভিভাবকদের দায়িত্ব নিয়ে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা তুলে ধরছেন। আর সেই আলোচনার আলোকেই আজকের এই লেখা। লিখেছেন রাকীবা ঐশী
n লকডাউনের কারণে শিশুদের স্কুল বন্ধ। এমনকি সাঁতার, গান, নাচ সহ সব ধরনের কোচিংও বন্ধ। তাই বিকেলে খেলাধুলা করা বা পার্কে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই যেসব শিশুর কিছুটা হলেও বোধশক্তি তৈরি হয়েছে তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ বিষয়ে। তাহলে শিশুর মধ্যে চার দেয়ালের মধ্যে আটকে থাকার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়বে।
n বছরের আর পাঁচটা দিনের চেয়ে লকডাউনকালে অভিভাবকদের হাতে সন্তানকে দেওয়ার মতো একটু বেশিই সময় আছে। তাই এই সময় চেষ্টা করবেন, যদি একসঙ্গে বসে কিছু খেলা যায় বা কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়— যা ওদের কাছে অনেক বেশি উপভোগ্য মনে হয়।
n অনেকটা সময় হাতে থাকায় আপনার শিশুর নানা ভাবনার বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। মনে রাখবেন, পাঠ্যবইয়ের বাইরেও নানা বই পড়ার স্বভাব পরবর্তীকালে শিশুদের অনেক উপকারে আসবে। সেইসঙ্গে শিশুর কার্টুন ও মোবাইল গেমসের নেশাও এই লকডাউনেই দূর করা বা কমানো সম্ভব।
n কোনো কারণেই যেন দাম্পত্য কলহ না হয়। হলেও চেষ্টা করতে হবে, তা দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে। খেয়াল রাখতে হবে, বাবা-মার মধ্যকার অশান্তি যেন সন্তানকে প্রভাবিত না করে।
n বাড়ির অন্য সবাই যেমন সংসারের সমস্ত কাজ ভাগ করে করছেন, আপনার সন্তানটিকেও তার বয়স ও ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ ভাগ করে দিন। সকলের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করাটা হয়তো ওর কাছে উপভোগ্যই হবে। ছবি আঁকা, বাগান করা, ছড়া বা গল্পের বই পড়া, বাজনা বাজানোর মতো কোনো শখ— যেটা ঘরে বসেই করা যায়, শিশুদের এমন কিছুতে উত্সাহিত করুন।
n জীবনের অতীত হওয়া সময়গুলোর তুলনায় বর্তমানে প্রায় সব বাড়িতেই খাওয়া-দাওয়া অনেক বেশি সাদামাটা আর সংক্ষিপ্ত। এর মধ্যে দিয়ে পরিবারের শিশুটির কাছে এই বার্তা যাক— জীবনে খারাপ-ভালো যে কোনো পরিস্থিতিই আসতে পারে। সকলের মতো তাকেও তা মেনে নিতে হবে। একই সময়ে খাবার যেন একদম নষ্ট না করে সেই বার্তাও দিতে হবে তাদের। আর বোঝাতে হবে সাধারণ মানুষের অবস্থা। এতে করে অসহায়দের প্রতি তাদের মনে এক ধরনের সহানুভূতি জেগে ওঠবে।
n শিশুরা দীর্ঘসময় ঘরের চারদেয়ালে অবস্থান করায় একঘেয়ে হয়ে কিছুটা দুষ্টুমি করতেই পারে। আর সেই কারণে শাস্তিস্বরূপ ওদেরকে মারধর করা একদমই কিন্তু ঠিক হবে না। এতে বরং শিশুর মনের উপর উল্টো প্রভাব পড়বে এবং তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হবে।
