সাঙ্গাকারার স্মৃতিতে লাহোর হামলা

‘যেন নরক নেমে এসেছিল’

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ২০:৪০

স্পোর্টস ডেস্ক

২০০৯ সালের ৩ জুন। দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলার জন্য লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যাচ্ছিল সফরকারী শ্রীলঙ্কা দল। মাঝপথে বাসকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশসহ প্রাণ হারান আট পাকিস্তানি। আহত হন ছয় লঙ্কান ক্রিকেটার।

সম্প্রতি স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে মাইক আথারটনের সঙ্গে আলাপচারিতায় ১১ বছর আগের সেই দিনে ফিরে যান কুমারা সাঙ্গাকারা। যে ঘটনা মনে পড়লে এখনো শিউরে ওঠেন লঙ্কান গ্রেট। জানান, সেই ঘটনাতেই পালটে যায় সাঙ্গাকারার জীবন দর্শন।

প্রথম ইনিংসে ৬০০ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়েছিল শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেটে ১১০ রান করেছিল পাকিস্তান। তৃতীয় দিনের খেলার জন্য মাঠে যাওয়ার সময় সাঙ্গাকারা ভাবছিলেন, কী করবেন সন্ধ্যায়।

তিনি বলেন, ‘সামনে বসে থাকা আমাদের একজন পেসার বলছিল, উইকেট একেবারেই ফ্ল্যাট। আমি স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের শিকার হতে যাচ্ছি। আশা করি, একটা বোমা ফাটবে, তাতে আমরা বাড়ি ফিরে যেতে পারব। এর ২০ সেকেন্ড পর এটা ঘটল। আমরা গুলির শব্দ শুনি, ভেবেছিলাম বোধহয় আতশবাজির শব্দ। আমাদের একজন সামনে বসে ছিল, সে বলেছিল - নিচু হও, ওরা বাসে গুলি করছে।’

স্মৃতিচারণা করে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘সেখানে যেন নরক নেমে এসেছিল। আমরা বাসের আইলে লুকাই। যেন একে অন্যের ওপরে ছিল সে সময়। এরপর গুলি শুরু হলো। যতবার পেরেছে ওরা বাসে গুলি করেছে। গ্রেনেড ছুড়েছে, একটা রকেট লঞ্চারও ছুড়েছিল এবং কোনো কারণে, আমি জানি না কেন, আমরা বেঁচে যাই।’

অনেকের শরীর থেকে রক্ত পড়ছিল। কার কি অবস্থা বোঝার উপায় ছিল না। দমবন্ধ করা সেই পরিস্থিতির একটা ধারণা দিলেন সাঙ্গাকারা, ‘থিলান সামারাবিরা আহত হয়েছিল। আমার কাঁধে অনেক শার্পনেল আঘাত করেছিল। অজন্তা মেন্ডিস আহত হয়েছিল। থারাঙ্গা পারানাভিতানার বুক থেকে রক্ত পড়ছিল। গুলি লেগেছে জানিয়ে লুটিয়ে পড়েছিল সে। আমরা বাস জুড়ে শুনছিলাম, আহ, ওহ শব্দ।’

একটু একটু করে স্বাভাবিক হতে থাকে পরিস্থিতি। সাঙ্গাকারারা তখন ভাবছিলেন, আমরাই কেন? সাঙ্গাকারা বলেন, ‘তিন-চার মিনিটে আমরা যে বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম, লোকেদের এর মধ্য দিয়ে প্রতিদিন যেতে হয়, এনিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। এগুলো আমাদের একটা ব্যাপার বুঝতে সহায়তা করেছিল—আমরা নই কেন? আমাদের কি বিশেষ এমন বানিয়েছে যে, আমরা আক্রমণের মুখে পড়ব না বা এমন কিছুর ভেতর দিয়ে যাব না।’