দূষণমুক্ত পরিবেশের ঝলক দেখাচ্ছে করোনা ভাইরাস

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ২১:৫৯

করোনা ভাইরাস দ্বারা তৈরি পরিবেশগত পরিবর্তনগুলো প্রথম থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এ রোগের প্রভাবে লকডাউন প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী তার রূপ পরিবর্তন করতে শুরু করেছে। আর এ পরিবর্তন মাথার ওপর পরিষ্কার আকাশ থেকে শুরু করে পায়ের নিচে জমি পর্যন্ত অনুভূত হয়। এর সঙ্গে দেখা মিলছে বিশুদ্ধ বায়ু ও নির্মল প্রকৃতি যাতে সহজেই শ্বাস নেওয়া যায়। বিশ্বের বেশির ভাগ কলকারখানাগুলোই লকডাউনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শহর ও শিল্প কেন্দ্রগুলোতে নোংরা ও দূষণের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে কমতে শুরু করেছে। চীন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কার্বনডাই-অক্সাইড এবং নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডের প্রায় ৪০% অস্থায়ী পতন ঘটাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায় এ হতে পারে, দূষণমুক্ত পরিবেশের এক ঝলক। যা অবশ্যই আশাবাদের উদ্রেক ঘটায়। তবে এটি কেবল এই স্বল্পমেয়াদি লকডাউনের ওপর নির্ভর করবে না। এর জন্য নিতে হবে দীর্ঘ পদক্ষেপ এবং এ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নির্ভর করবে সকল মানবজাতির সচেতনতাবোধ ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। একটি সবুজ বিশ্ব গড়ে তুলতে করোনা অস্বাভাবিকভাবে পরিবেশগত বেনিফিট  বিতরণ করছে; পরিশুদ্ধ বাতাস, কম কার্বন নিঃসরণ, বন্য জীবজন্তুর জন্য একটি অবকাশ তৈরি করেছে। তবে মানুষ এই মুহূর্তটিকে মূলধন করতে পারে কি না সেটিই দেখার বিষয়। এখন সময় এসে গেছে মানুষ ও পরিবেশের মাঝে সহজাত আন্তঃসংযোগকে বোঝা ও সম্মান প্রদানের মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানকে গুরুত্ব প্রদান করা। প্রকৃতির সঙ্গে একত্রিত হয়ে একটি  মানবিক পদ্ধতি পুনরায় স্থাপন করার উপযুক্ত সময় এখন। যার মাধ্যমে সবুজ পৃথিবী পুনরুদ্ধার এবং মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য, যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব। মানুষসহ সকল প্রাণিকুল প্রকৃতিরই অংশ। সুতরাং, প্রকৃতি সুস্থ থাকলে সুস্থ থাকবে মানুষ। দীর্ঘ হবে এ সুন্দর পৃথিবীতে তার চলার পথ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়