পর্যটনের এক অপার সম্ভাবনার জেলা কুমিল্লা। বিশেষ করে প্রাচীন এ জেলার কোটবাড়ী এলাকা ঘিরে এই সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কোটবাড়ী শালবন বিহারে প্রতি মাসে অর্ধ লক্ষাধিক দর্শনার্থী আসে। এছাড়া এর পাশে বন বিভাগের শালবন, ব্যক্তি উদ্যোগে স্থাপিত দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন বেসরকারি পার্ক, বিরল উদ্ভিদ উদ্যান মিলিয়ে আসে লক্ষাধিক পর্যটক।
ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বৌদ্ধ বিহার সূত্র জানায়, শালবন বিহারের পাশে অবস্থিত কুমিল্লা সেনানিবাস। সেখানে রয়েছে আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, চারপত্রমুড়া, কোটিলামুড়া ও লতিকোট মুড়া। এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো সাধারণ দর্শনার্থীরা দেখতে পারত না। এবার সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে শুধু দেশি পর্যটক সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। কিছু দিনের মধ্যে উন্মুক্ত করা হবে ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, রানীর বাংলো, কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পাড়স্থ রানীর কুটির, শচীন দেব বর্মণের বাড়ি এবং জেলার লাকসামে নওয়াব ফয়জুন্নেছার বাড়ি। এখানে পর্যায়ক্রমে টিকিটের ব্যবস্থা করা হবে। এদিকে কুমিল্লার লালমাই ও ময়নামতি পাহাড় ঘিরে ৫৪টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি খনন করা হয়েছে। খননের অপেক্ষায় রয়েছে আরো ১৪টি।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর কুমিল্লার চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান বলেন, কুমিল্লায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেনানিবাসের ভেতরের প্রত্ন স্থাপনাগুলো দেশি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে সেনানিবাসের জিওসি ও স্টেশন কমান্ডার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে কোটবাড়ী এলাকায় প্রতি মাসে ৫০ হাজারের বেশি পর্যটক টিকিট কেটে প্রত্নসম্পদ দেখে। এছাড়া পাশের বেসরকারি পার্ক, শালবন, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও উদ্ভিদ উদ্যান দেখতে আসে লক্ষাধিক মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিকটবর্তী হওয়ায় এখানে মানুষ আসতে চায়, সময় কাটাতে চায়। এখানে পর্যটন করপোরেশন একটি মোটেল স্থাপন করলে পর্যটক রাত্রি যাপন করতে পারবে। সময় নিয়ে বিভিন্ন বিহার পরিদর্শন করতে পারবে। মোটেল স্থাপন নিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভায় কথা বলেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণে বরাদ্দের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
