যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে আলোচনায় আসা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়েপোলিসের পুলিশ বিভাগই ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। মিনিয়েপোলিস সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা এই অঙ্গীকার করেছেন। এ ঘটনাকে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর চলমান প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের বড়ো অর্জন বলেই মনে করা হচ্ছে।
মিনিয়েপোলিসের স্থানীয় কাউন্সিলের ১৩ সদস্যের মধ্যে ৯ জনই জননিরাপত্তার একটি নতুন মডেলের কথা বলছেন। যদিও শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রে আগে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন। যে কারণে তিনি বিক্ষোভকারীদের সমালোচনার মুখে পড়েন। এদিকে দেশটিতে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা হাঁটু গেড়ে ফ্লয়েডকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তারা পুলিশে সংস্কারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। খবর সিএনএন ও বিবিসি ও ডেইলি মেইলের
ফ্লয়েডকে শ্রদ্ধা জানালেন ডেমোক্র্যাটরা
সোমবার পুলিশের সংস্কার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আগে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাটরা হাঁটু গেড়ে ফ্লয়েডের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারা ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড ধরে হাঁটু গেড়ে বসে থাকেন। কারণ ফ্লয়েডকে ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পর্যন্ত হাঁটু দিয়ে চেপে ধরেছিলেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন। তারা নীরবতাও পালন করেন। স্পিকার পেলোসি বলেন, পুলিশের নির্যাতনে নিহত ফ্লয়েড একজন বীর। তার হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছে এবং পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে। তাদের সংস্কার প্রস্তাবে হাঁটু গেড়ে কাউকে গলা চেপে ধরা, পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা করার সুযোগ এবং দোষী সাব্যস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম জাতীয়ভাবে নিবন্ধিত করা। এছাড়া প্রস্তাবে পুলিশের সুরক্ষা অনেকটা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
গত ২৫ মে মিনিয়েপোলিসে পুলিশ হেফাজতে নিহত হন আফ্রিকান আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। তার মৃত্যুর জের ধরে দেশটিতে তীব্র বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন তৈরি হয়েছে। রবিবারও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে টানা ১৩ দিনের মতো বিক্ষোভ হয়। অনেক শহরে কারফিউ তুলে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে। ব্রিটেনের ব্রিস্টলে স্থাপিত ক্রীতদাস ব্যবসায়ী অ্যাডওয়ার্ড কলস্টোনের ভাস্কর্য ভেঙে নদীতে ফেলে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের রিচমন্ডে ১৮৯১ সালে স্থাপন করা জেনারেল উইলিয়াম কার্টারের ভাস্কর্য, মিশিগানের সাবেক বর্ণবাদী মেয়র অরভিল হুবার্টের ভাস্কর্যসহ বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তির ভাস্কর্য বিক্ষোভকারীরা ভেঙে ফেলে।
ক্রীতদাস কেনাবেচায় সরাসরি জড়িত কলস্টনের ভাস্কর্য নদীতে ফেলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকে। লেবার পার্টির এমপি ক্লাইভ লুইসসহ অনেক ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ বিতর্কিত এই ভাস্কর্য অপসারণকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার প্রতিবাদ এবং পুলিশের বর্ণবাদী আচরণ বন্ধের দাবি থেকে আন্দোলন যে অন্যদিকে সরে যাচ্ছে, এ ঘটনা তারই প্রমাণ। লন্ডনে বিক্ষোভ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
এদিকে জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার মূল আসামি পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার প্রথমবারের মতো আদালতে তোলার কথা ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে গতকালই হিউস্টনে জর্জ ফ্লয়েডের তৃতীয় ও শেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ মঙ্গলবার তার শেষকৃত্য হওয়ার কথা রয়েছে।
