আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাচ্ছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। যা বর্তমান অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের চেয়ে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। গতকাল সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ কমিশনের ৩০তম সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিশনের সদস্য, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাও অংশ নেন।
সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতিবছরই সংসদ কমিশনের বৈঠকে বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের নতুন পদ সৃষ্টি, প্রকল্প প্রণয়নসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কমিশনের বৈঠকে।
২০২০-২০২১ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৩৩৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা পরিচালন খাতে এবং ৮৩ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ। বিদায়ি ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটে পরিচালন খাতে ৩২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং উন্নয়ন খাতে ৮৩ লাখ টাকাসহ মোট ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু পরিচালন খাতে থাকা বরাদ্দের ৫ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা সংসদ খরচ করতে না পারায় গতকালের বৈঠকে তা কমিয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করা হয়। উন্নয়ন খাতের ব্যয়ে কোনো হেরফের না হওয়ায় সম্পূরক বাজেটের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ৩২ কোটি ২৮ লাখ ৪২ হাজার টাকা। নতুন অর্থবছরে বর্ধিত বরাদ্দের পুরোটাই পরিচালন খাতের। উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের মতো আগামী অর্থবছরের জন্য ৮৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে কমিশন বৈঠকে।
কমিশন সভার কার্যপত্র থেকে জানা যায়, কর্মচারীদের বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি, নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ, ভিভিআইপিদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যসব ভাতা পরিশোধ, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৬৯২ কর্মচারীর পোশাক, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অটোরিকশা চালক নিয়োগ, প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তাদের মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির কার্যালয়ে আপ্যায়ন ব্যয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ এবং রিএজেন্ট কেনা, অধিবেশন চলাকালীন বার্তাবাহক ও দৈনিক ভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন চাহিদার কারণে নতুন অর্থবছরে পরিচালন খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংসদ কমিশনের বৈঠকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৩৫৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ৩৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বাজেট প্রক্ষেপণ অনুমোদন করা হয়েছে।
গতকালের বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপের নিরাপত্তাসংক্রান্ত পুলিশ প্রটেকশনের জন্য দুইটি ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্স টিওঅ্যান্ডইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ১১টি নতুন পদ সৃষ্টিসহ পদোন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের কার্যালয়ে ২১ ইঞ্চি সিআরটি টেলিভিশনের পরিবর্তে ৪০ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন সরবরাহের প্রস্তাব অনুমোদন, সংসদ সচিবালয়ের সমন্বয় সভা এবং অধিবেশন প্রস্তুতিমূলক সভায় সরবরাহ করা নাস্তায় জনপ্রতি বরাদ্দ ও সংখ্যা বৃদ্ধি, সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে কমিটি। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠকে আলোচ্যসূচি উপস্থাপন করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লাহ খন্দকারসহ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
