করোনা ভাইরাস মোকাবিলাসহ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও পুনর্জীবিত করতে ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বাজেট রাখার প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। যা বর্তমান বাজেটের প্রায় তিনগুণ ও মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপির) ৫৫ শতাংশ। দেশের বর্তমান বাজেটের আকার ৫ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা।
গতকাল সোমবার করোনায় মহাবিপর্যয় থেকে মুক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট প্রস্তাবনা শীর্ষক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদসহ সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বিকল্প মডেল বাজেটের প্রস্তাব উল্লেখ করে আবুল বারকাত বলেন, আগামী বাজেটের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর আয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির মধ্যে ৭০ হাজার কোটি টাকা বা অর্ধেকের বেশি আসবে বন্ড বাজার থেকে। আর সঞ্চয়পত্র থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে আসবে ২৫ হাজার কোটি টাকা।
আবুল বারকাত বলেন, ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণমুক্ত বাজেটে রাজস্ব আহরণের টার্গেটের প্রস্তাব করা হয়েছে ১২ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার। যা মোট বাজেটের ৯১ শতাংশ। তিনি বলেন, বাজেটে নতুন করে ২১টি খাতের কর আদায়ের কথা বলেছি। এর মধ্যের চারটি খাত থেকে ব্যাপক আয় করা যাবে। এগুলো হচ্ছে—সম্পদ কর, অতিরিক্ত মুনাফা কর, অর্থপাচার, কালো টাকা থেকে কর এবং বিদেশিদের কাছ থেকে করসহ ২২ খাত থেকে মোট ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা কর আদায় করতে পারবে সরকার। তিনি বলেন, উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ ৫৭ শতাংশ আর ৪৩ শতাংশ হবে পরিচালন শতাংশ রাখার প্রস্তাবিত করা হয়েছে রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ কর ৭৯ শতাংশ থেকে আর পরোক্ষ কর ২১ শতাংশ ধরা হয়েছে। ফলে সমাজে আয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বৈষম্যের বাজেট।
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট করোনা মোকাবিলার জন্য হবে উল্লেখ করে আবুল বারকাত বলেন, গ্রাম পর্যায়সহ দশের ৮২ ভাগ মানুষের কাছে করোনার সেবা পৌঁছায়নি। দায়সারা কাজ হয়েছে। এ মুহূর্তে প্রয়োজন শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্বাস্থ্য খাতের জন্য আগামী বাজেটে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান আবুল বারকাত।
অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব এখন মহাবিপর্যয়কাল অতিক্রম করছে। ২১৩টি রাষ্ট্র ও ৮০০ কোটি মানুষ আজ মহাসংকটে। অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ৮ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইএলওর হিসাবে বিশ্বের ৫০ ভাগ মানুষ জীবিকা হারাবেন। আর বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষও একই পথের পথিক। তাই আসন্ন বাজেট হবে কোভিড থেকে মুক্তির বছর। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে দরিদ্র মানুষের বেহাল দশা। লকডাউনের ৬৬ দিনে নবদরিদ্র ও অতি দরিদ্র সৃষ্টি হয়েছে ৫ কোটি ৯৫ লাখ বা প্রায় ৬ কোটি। শ্রেণি কাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।
বৈদেশিক অনুদান ও ঋণ বিষয়ে অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেটে বলা হয়, আমরা নতুন করে বিদেশ থেকে কোনো ঋণ নিব না। পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করব। তবে স্বৈরাচারী আমলের বৈদেশিক ঋণ অস্বীকার করার মতো দক্ষতা আমাদের অর্জন করতে হবে। আমরা যদি পাকিস্তান আমলের ঋণ অস্বীকার করতে পারি তাহলে কেন স্বৈরাচারী আমলের ঋণ অস্বীকার করতে পারব না। এজন্য অর্থনৈতিক কূটনীতি শক্তিশালী করার কথা বলা হয়।
