চলছে মহামারি দুর্যোগ কোভিড-১৯। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে অনলাইনে পাঠদান শুরু হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও কি সেই পথে হাঁটবে? নাকি খুব শিগিগরই খুলে যাবে ক্যাম্পাস। ভবিষ্যত্ করণীয় বিষয়ে কথা বলেছেন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের মতামত তুলে ধরেছেন— মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর
ক্লাস করার চেয়ে দুর্যোগ মোকাবিলা গুরুত্বপূর্ণ
করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের জনজীবনের পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাও একদম স্থবির। এই স্থবির অবস্থা কাটিয়ে উঠতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন ক্লাসের দিকে ঝুঁকে পড়ছি আমরাও। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা চালু করতে অনলাইন ক্লাসের বিকল্প না থাকলেও বাংলাদেশের মতো নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড়ো অংশ তাদের আর্থিক সমস্যা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে দুর্বল ইন্টারনেট, প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা, শুধু ধনী ও শহুরেদের শিক্ষাব্যবস্থা বলা চলে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি, শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার চেয়েও সবাই একত্রে করোনা দুর্যোগ থেকে রক্ষা চেষ্টায় কাজ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
—মেহেদী হাসান তালুকদার
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।
আর কিছুদিন ধৈর্য ধারণ করা উচিত
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের দিকে হাঁটা উচিত হবে না বলে আমি মনে করি। কেননা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড়ো অংশ বিভিন্ন কারণে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে সক্ষম নয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পাস খোলার নির্দেশনা এলেও পরিস্থিতি মোটেও স্বাভাবিক থাকবে না বরং বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মধ্যে পড়বে। তাই এই পরিস্থিতিতে আমাদের আরো কিছুদিন ধৈর্য ধারণ করা উচিত। সেক্ষেত্রে নিজ চেষ্টায় বাসায় বসেই পড়াশোনা যতটুকু সম্ভব চালিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
—ইউনুস বিন হোসাইন খান
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
ছুটি কমিয়ে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে
সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে থাকে বিভিন্ন জেলার ছাত্রছাত্রীরা। অনলাইন ক্লাস নেওয়ার প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এই যে, সবাই এই অনলাইন সুবিধা পাচ্ছে কি না। অথচ দেশের সব জায়গায় এখনো ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক সমানভাবে সরবরাহ সম্ভব হয় না। আবার অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েও এখানে পড়াশোনা করে। কিন্তু এখানে উন্নত ডিভাইস থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সবাই যদি অংশগ্রহণ করতে না পারে তাহলে অনেক শিক্ষার্থীই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সব জায়গায় ইন্টারনেট সরবরাহ সমান না হওয়া পর্যন্ত এই অনলাইন ক্লাস না নেওয়াটাই উত্তম। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি কমিয়ে এবং সেমিস্টার বিরতি সীমিত করে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
—ত্বকী ওয়াসীফ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
ক্লাসের ভিডিও তৈরি করা যেতে পারে
অনলাইনে দীর্ঘসময় নিয়ে ক্লাস করা অনেকের জন্যই কষ্টসাধ্য। সেক্ষেত্রে শিক্ষকরা যদি তাদের ক্লাসগুলোর ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তাহলে সবার জন্যই ভালো হবে বলে আমি মনে করি। শিক্ষার্থীরা সেসব ভিডিও দেখে বাড়িতে পড়াশোনা করতে পারবে। সেক্ষেত্রে সবাই ব্যবহার করে এমন মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করতে হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে আন্তরিক এবং সহযোগিতা করতে হবে। তাহলে সবাই উপকৃত হবে। এমন পরিস্থিতিতে হুট করে ক্লাস শুরু হলে তা হবে আত্মঘাতী।
—মো. ওমর ফারুক বাপ্পি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।
