সকাল ১০টায় ক্লাস। কিন্তু তার আগে ক্লাসের সব নোট করেছি কি না, পড়া তৈরি করেছি কি না, আজকের ক্লাসে কী পড়াতে পারে তাই নিয়ে তো আলোচনা করতেই হয়। সেজন্য ক্লাস টাইমের এক দেড় ঘণ্টা আগেই সবাই আমতলায় উপস্থিত। সব ঠিকঠাক করে তারপর ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা। ক্লাস শেষ করেও সবাই আমতলা থাকা চাই-ই চাই। বলছি ফারসি ভাষা ও সাহিত্য ১৪ ব্যাচের সেই ১০ জনের কথা। ক্যাম্পাসে এসেছি বেশিদিন হয়নি। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি নতুন বন্ধুদের সঙ্গে বেশ ভালো মানিয়ে নিতে পারব সেটা কখনো ভাবিনি। আমাদের এই বন্ধুত্বের সঙ্গে কলাভবনের সামনের আমতলা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ক্লাস টাইমের বাকি সময়টা কাটে আমাদের এই আমতলায়। কত কথা কত আড্ডা কত স্মৃতি জমানো আছে এই আমতলায় বলে শেষ করা যাবে না। বন্ধুরা একেক জন একেক জেলার। যার যার জেলার বিখ্যাত খাবার এনে একে অন্যকে খাওয়ানোর প্রতিযোগিতা তো আছেই। ক্লাসের সব নোট, অ্যাসাইনমেন্ট আমরা এখানে বসেই করে থাকি। কিন্তু করোনার ভয়াল থাবার জন্য আমতলা আর আগের মতো নেই। কিছুদিন আগে ক্যাম্পাস গিয়ে ফাঁকা আমতলা দেখে বুকের ভিতরটা হুহু করে উঠল। এই সেই আমতলা, যেখানে আমরা দিনের পর দিন আড্ডা দিয়েছি। ফাঁকা আমতলা দেখেও চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই সোনালি ক্যাম্পাসের দিনগুলো। দেশ ও দশের কথা ভেবে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছি। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার কোনো ধারণা নেই আমাদের। তাই বাসায় এখন সময় কাটে বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাট করে ও গল্পের বই পড়ে। কিন্তু আমাদের সেই আগের মুখরিত সেই আমতলা অনেক মনে পড়ে। যত দেরিই হোক না কেন বিধাতার কাছে একটাই চাওয়া যে সবাই যেন ভালো থাকে আর সুস্থ থাকে। আমরা আবারও আড্ডা দেব এই আমতলায় কোনো এক সুস্থ দিনে।
—শিক্ষার্থী, ফরাসি ভাষা ও সাহিত্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
