স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে মোট করোনা আক্রান্তের ৩১ শতাংশ নারী, যার ২ শতাংশ গর্ভবতী। গর্ভবতী মায়েদের স্বাভাবিকভাবে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আর করোনাকালীন আরো সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময়ে গর্ভধারণ না করার বিষয়ে মত দেন তারা।
করোনা ভাইরাস এখনো সবার কাছে নতুন বিষয়, তাই গর্ভাবস্থায় এর প্রভাব সম্পর্কে এখনো খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। গর্ভাবস্থা ও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এবং কীভাবে আপনি এই সময় নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন, সে সম্পর্কে স্ত্রী ও ধাত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সংযুক্তা সাহা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। রোগীর ব্যবহারের সবকিছু আলাদা করা সম্ভব হলে আলাদা ঘরে থাকা এবং বাড়িতেও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে বলেন তিনি, যেন কোনোভাবে গর্ভবতী মা সংক্রমিত না হন। গবেষণায় দেখা যায়, করোনা সংক্রমিত সাধারণ নারী ও গর্ভবতী নারীর মধ্যে উপসর্গে কোনো পার্থক্য থাকে না—জানান স্ত্রী ও ধাত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ সমিতির সভাপতি অধ্যাপক সামিনা চৌধুরী। তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়ের করোনা হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে সন্তান প্রসব করতে দেখা যায়। গর্ভধারণের প্রথমদিকে করোনা আক্রান্ত হলে গর্ভের শিশুরও করোনা হয়। ইতিমধ্যে যে আক্রান্ত হয়েছে, এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পরে লক্ষণগুলো দুই দিনের মধ্যে বা দীর্ঘ ১৪ দিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে। হালকা, মাঝারি থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা কাশি জ্বর, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা গর্ভের সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে বলে জানান অধ্যাপক সামিনা। হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত মায়ের মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। গর্ভবতী নারীরা কোভিড-১৯ ভাইরাসের বৃহত্তর ঝুঁকিতে আছেন বলে মনে করেন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ। গর্ভধারণ না করার পরামর্শ দেন তিনি; বলেন, গর্ভবতী মা নিয়মিত চেকআপ না করতে পারা যেমন বিপজ্জনক, তেমন গর্ভবতী মা করোনায় আক্রান্ত হলে বিপদ আরো বেশি। করোনায় আক্রান্ত মায়ের সন্তান জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাতে পারে। আবার মৃত শিশুও হতে পারে। গর্ভবতী মায়ের স্বাভাবিকভাবে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। করোনা আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্ট বিপজ্জনক অবস্থায় যেতে পারে।
n আপনি যদি গর্ভবতী হন, তাহলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করবেন না। ইতিবাচক থাকুন এবং কম চিন্তা করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাড়িতে থাকুন এবং একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন, আপনি এবং আপনার শিশু ভালো থাকবে।
n যেহেতু এখনো কোভিড-১৯ ভাইরাসের জন্য কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়নি, তাই গর্ভবতী মহিলারা সংক্রমণ রোধে সাধারণ মানুষের মতো কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। আপনি যদি গর্ভবতী হন, তাহলে এই সংক্রমণটি ধরার সম্ভাবনা কমাতে আপনি ২০ সেকেন্ডের জন্য সাবান-পানি দিয়ে ঘন ঘন আপনার হাত ধোয়া উচিত। টয়লেট ব্যবহার করার পরে, বাইরে থেকে এসে, খাওয়ার আগে ও পরে, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পরে এবং নাক ঝাড়ার পরে সাবান-পানিতে হাত ধোয়া অবাশ্যক। অ্যালকোহল-ভিত্তিক স্যানিটাইজার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করুন। অসুস্থদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। আপনার চোখ, নাক ও মুখে হাত দেওয়া বন্ধ রাখুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন এবং সঙ্গে সঙ্গে টিস্যুটি নিরাপদ স্থানে ফেলে দিন। সামান্যতম লক্ষণ অনুভব করলে অতিসত্বর ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
n শিশুটিকে এই সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ডাক্তাররা তাকে একটি নবজাতক ইউনিটে রাখতে পারেন, মায়ের কাছ থেকে আলাদা রাখলেও বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। কারণ ইউনিসেফ বলছে, করোনা আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেলে নবজাতকের সংক্রমণ হতে পারে, এমন প্রমাণ নেই। মা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
n যদি আপনি করোনা ভাইরাসটির জন্য ইতিবাচক পরীক্ষা করেন, তবে আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকেও সে সম্পর্কে অবহিত করা উচিত।
n হালকা লক্ষণগুলোর ক্ষেত্রে আপনাকে বাড়িতে শেলফ আইসোলেট হয়ে থাকতে বলা হবে। তবে লক্ষণগুলো গুরুতর হলে হাসপাতালে আপনার চিকিত্সা নিতে হবে।
n মা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জন্য সন্দেহজনক বা পরীক্ষিত হলে সন্তানেরও জন্মের সময় একই পরীক্ষা করা হবে।
n করোনা ভাইরাসের জন্য কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি, তাই গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে ভালো কাজটি হলো সুস্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণ করা, তার প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করতে স্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন— ভিটামিন সি, ডি, জিংক।
n সামাজিক দূরত্বে অনুশীলন এবং কম চিন্তা করা।
ছবি : ইন্টারনেট
