শ্রীলঙ্কায় হবে এশিয়া কাপ

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ২১:১১

এশিয়া কাপ আয়োজনের সবুজ সংকেত পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। গত ৮ জুন কোনো বড়ো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছিল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভা। এসিসি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ঐ সভা থেকেই নাকি চলতি বছর এশিয়া কাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে।

দেশটির গণমাধ্যমের কাছে এমনটাই দাবি করেছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি (এসএলসি) শাম্মি সিলভা। লঙ্কান দৈনিক সিলন টুডেকে তিনি বলেছেন, ‘পিসিবির সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। গোটা পৃথিবীর বর্তমান অবস্থার কারণে এরই মধ্যে তারা এ আসর আমাদের আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আজ (৮ জুন) আমাদের এসিসির অনলাইন মিটিং ছিল। আসলে টুর্নামেন্টটা আয়োজনের বিষয়ে তারা আমাদের সবুজ সংকেত দিয়েছে।’

এবার টি-২০ ফরম্যাটে হবে উপমহাদেশের বিশ্বকাপ খ্যাত এ টুর্নামেন্ট। কারণ অক্টোবরেই অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে টি-২০ বিশ্বকাপ। এশিয়া কাপে তাই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিই সারবে এশিয়ার দেশগুলো।

মূলত এশিয়া কাপের আয়োজক ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। করোনা ভাইরাস, ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পাকিস্তানে এশিয়া কাপ হচ্ছে না। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিসিবি। করোনার সংকটে পড়ে সেটিও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তাই বিকল্প ভেন্যুর সন্ধানে ছিল এসিসি। ৮ জুন সভা শেষে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও সংস্থাটি জানিয়েছে, বিকল্প ভেন্যুর চিন্তা করা হচ্ছে। দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে। আগামী ২৯ জুন আবার এসিসির সভা বসবে। তখনই ভেন্যুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালোভাবে সামাল দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছে। এরই মধ্যে লঙ্কান ক্রিকেট দলের ক্যাম্প শুরু হয়ে গেছে। এশিয়া কাপের সম্ভাব্য ভেন্যুর মধ্যে বাংলাদেশ, আমিরাতে করোনার প্রভাব রয়েছে। তাই এসিসির জন্য নিরাপদ গন্তব্য বলা যায় শ্রীলঙ্কা। মিত্র বোর্ড হিসেবে পিসিবিও এসএলসিকে আয়োজক স্বত্ব দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে এশিয়া কাপ আয়োজনের জন্য সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করতে হবে এসএলসিকে। করোনা সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত চিকিত্সা নিশ্চিত করতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে তাদের। টুর্নামেন্টের আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে দ্রুতই সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে এসএলসি।

এসিসির সভায় এবারই প্রথম অংশ নেন বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি এবং সচিব জয় শাহ। পিসিবির সভাপতি এহসান মানিসহ অন্য সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা সভায় অংশ নেন।

এশিয়া কাপের সর্বশেষ আসর হয়েছিল আমিরাতে। ২০১৮ সালের ঐ আসরের শ্বাসরোধী ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল ভারত। এবারও টুর্নামেন্টে অংশ নিবে ৬ দল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান ছাড়াও বাছাই থেকে উঠে আসা একটি দল অংশ নেবে।