অণুগল্প

বিবাহসূত্র

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ২১:১২

২০৪০ সাল। করোনা আর কোভিড প্রেমে পড়ল। করোনা তরফদার এবং কোভিড উনিশ চৌধুরী। তাদের প্রেমটা গাঢ়। করোনা তার বন্ধুদের বলল, কোভিড ছাড়া আমি বাঁচব না। কোভিডের সঙ্গে আমার ভালোবাসা সেই ২০২০ সাল থেকে। আমি ওকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই।

অপরদিকে, কোভিড তার বন্ধুদের বলল, করোনার সঙ্গে আমার প্রেম আকস্মিক নয়। এটা জন্মগত। মানুষ জন্মগত স্বভাব কখনো ভুলতে পারে না। আমি করোনাকে ভুলতে পারব না।

বন্ধু উহান খান বলল, ভুলতে বলেছে কে? আমরা তো চাই তোরা দুজন মিলেমিশে থাক। আমার জন্ম তোদের থেকে এক বছর আগে। সেই ২০১৯ সালে। ডিসেম্বরে জন্ম নিলাম আর বাবা তমিজউদ্দিন খানও চায়নাপন্থি হয়ে আমার নাম রেখে ফেললেন। আছি আমি তোদের সঙ্গে।

উহানের কথা শুনে অন্য বন্ধুরা হো হো করে হেসে উঠল। কিন্তু কোভিড হাসল না। বলল, আমার বাবা বৈশাখ চৌধুরী বলেছেন করোনার সঙ্গে সম্পর্ক মেনে নেবেন না।

বন্ধুরা আবার হাসল। একজন বলল, তোর বাবার নাম বৈশাখ?

কোভিড বলল, বৈশাখ মাসে জন্ম বলে আমার দাদি এই নাম রেখেছিলেন।

করোনার বাবা সাদ্দাম হোসেন তরফদার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কোভিডকে মেনে নেবেন না। ইরাক যুদ্ধের সময় সাদ্দাম হোসেন তরফদারের জন্ম। সুতরাং যে কোনো যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞান আছে হয়তো। তাঁর যুক্তি করোনা আর কোভিডের মিলিত ফসল সুখকর হবে না। নাতি হলে শেষে নাম রাখতে হবে ভাইরাস ফোরটি টু। এখন বিয়ে হলে ২০৪২ সালে বাচ্চা হবে বলে সম্ভাবনা।

 

করোনা আর কোভিড সিদ্ধান্ত নিল তারা কোর্ট ম্যারেজ করবে। কোর্টে গেলে জজ আখলাকুর রহমান বললেন, তোমাদের এখন সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে চলা উচিত। তোমাদের একসঙ্গে দেখে আমার কোয়ারেন্টাইনে যেতে ইচ্ছে করছে।

জজ সাহেবের কথায় যুক্তি আছে। কিন্তু তাঁর কাজ হচ্ছে সমাধান করা। অথচ তিনি উলটো লকডাউনের আভাস দিচ্ছেন। কোভিড ও করোনা দুজন প্রায় একসঙ্গে বলে উঠল, তাহলে এখন উপায়?

আখলাক সাহেব বললেন, এজন্য আমরা একটা বেঞ্চ বসাতে পারি। শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত হবে।

ভালো যুক্তি। মনে নিল কোভিড আর করোনা।

বেঞ্চের শুনানিতে যেসব বিষয় উঠল তা বলার নয়। দুজনের বিয়ে হবে কি হবে না—এটাই ছিল সিদ্ধান্তের বিষয়। কিন্তু বিষয় চলে গেল সীমানার বাইরে। যার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা কোনো বিজ্ঞানীর কাজ নয়। বেঞ্চের বক্তব্যে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল। কেউ একজন বললেন, আমরা একমত না হলে তারা দুজন যদি বিয়ে ছাড়াই সংসার শুরু করে দেয়? যদি বাচ্চা হয়? সেই বাচ্চা যে-পথে হাঁটাচলা করবে সেই পথে অবিরাম ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে। সবার হাত তো স্যানিটাইজারের মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে হবে সারাক্ষণ।

করোনা আর কোভিড ভাবল, এটা তারা ভেবে দেখেনি—বিয়ে ছাড়াই সংসার করা যায়। তাহলে রাস্তা একটা খোলা আছে তাদের সামনে।

কেউ বললেন, আরো ভয়াবহ ভাইরাস আসার সম্ভাবনা। সকল মহামারিকে অতিক্রম করবে।

কেউ বললেন, সেই মহামারি এতই প্রকট আকার ধারণ করবে যে লাশ দাফনের কেউ থাকবে না। এক লাশ আরেক লাশের শেষকৃত্যে অংশ নেবে।

কেউ বললেন, আল্লাহকে লাশ দাফনের জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করতে হবে, ভগবানকে লাশের সত্কারের জন্য একজন দেবী পাঠাতে হবে, ঈশ্বরকে...।

 

কথা চলতেই থাকল। তুমুল হট্টগোল। আদালতে চেয়ার টেবিল ভাংচুর শুরু হয়ে গেল। করোনা ও কোভিড দ্বিধায় পড়ে গেল তারা বিয়ে করবে কি না।