কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। কৃষিজমি কমতে থাকা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও নগর বিস্তারের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনে বন্যা, খরা, বৈরী প্রকৃতিতেও খাদ্য উত্পাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের উদাহরণ। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রতিবেদনে ৩ কোটি ৬০ লাখ টন চাল উত্পাদন করে ৪ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় স্থান করে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসের এই রকম ক্রান্তিকালে দেশের অর্থনীতির জন্য বড়ো ইতিবাচক বার্তা বহন করে। ১৭/১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিশ্চয়তা দিয়ে বিশ্ব দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করায় কৃষকদের জানাই অভিনন্দন ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। চালের পাশাপাশি বিশ্বে সবজি, মাছ, আম এবং পেয়ারা উত্পাদনে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ, সপ্তম ও অষ্টম বাংলাদেশ। কৃষকরা ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষিকাজ অব্যাহত রেখে দেশে খাদ্যের বড়ো অংশ জোগান দেন। বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৬ শতাংশ। তাই গোটা বিশ্ব যখন বিরাট অর্থনৈতিক সংকটে, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাল উত্পাদনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধিতে কৃষকদের অবদানকে সম্মান জানিয়ে সকল মহলের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত। চাল উত্পাদনে এই অর্জন ধরে রাখতে কৃষিখাতে গবেষণা, কৃষকদের বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদে প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ-সুবিধা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, উত্পাদন খরচ কমানো ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি।
মো. সাইমুন
শিক্ষার্থী, সরকারি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম
