পূর্বাভাসহীন প্রাকৃতিক ঘাতক বজ্রপাত

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ২১:২১

বিগত কয়েক বছর ধরে বজ্রপাত উল্লেখযোগ্য হারে মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। চলতি বছর জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা ৩০০-র কাছাকাছি। ২০১৬ সালে বজ্রপাতে প্রায় ৩৫০ জন মারা যাওয়ার পর সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করে। মারা যাওয়াদের সিংহভাগই খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক এবং নদীতে ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে।

দেশের উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। সাধারণত মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণতা, অত্যধিক বৃষ্টি ও ঘন কালো মেঘের উপস্থিতির কারণে এপ্রিল থেকে প্রায় সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতের আশঙ্কা বিরাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা, জ্বালানি শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার, বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের নির্গমন বৃদ্ধি, অব্যাহত বায়ুদূষণ, আবহাওয়ার বিরূপ পরিবর্তন, বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়া, মোবাইলফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি ইত্যাদি বজ্রপাত বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কারণ। আমাদের দেশে বজ্রপাত সম্পর্কে যথাযথ সচেতনতা ও সতর্কতার অভাব, জনসংখ্যার মাত্রাতিরিক্ত ঘনত্ব, বড়ো গাছপালা কমে যাওয়া, মোবাইলফোনের টাওয়ার, সুউচ্চ ভবনে বজ্র নিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করার ফলেই বজ্রাঘাতে মানুষের মৃত্যু আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

নির্দিষ্ট পূর্বাভাসপ্রাপ্তির সুযোগ কম হলেও সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং সচেতনতা বজ্রপাতে মৃত্যুর হার কমাতে পারে। বৃষ্টিপাত ও বিজলি চমকানোর সময় খোলা জায়গা তথা মাঠ, রাস্তাঘাট, নদী, সাগর ইত্যাদিতে না থাকা, পানি, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিদ্যুত্ পরিবাহী বস্তুর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। সর্বাপেক্ষা যেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চলে বড়ো বড়ো গাছ যেমন তাল, বাবলা, বট, সুপারি ইত্যাদি বেশি করে রোপণের ব্যবস্থা করা।

আবু ফারুক

সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবান