অন অ্যারাইভাল ও ট্যুরিস্ট ভিসায় ওদের পাচার করা হয়েছিল

আপডেট : ০৯ জুন ২০২০, ২১:২৮

অন অ্যারাইভাল ও ট্যুরিস্ট ভিসায় লিবিয়ায় নিহত ২৬ বাংলাদেশিকে পাঠানো হয়েছিল। মানব পাচারে সক্রিয় দেশীয় দালালেরা প্রথমে ঢাকায় অবস্থান নেয়। পরে বেনগাজিতে মানব পাচারের জন্য স্থানীয় দালালদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পাসপোর্টগুলো স্ক্যান করে সফ্ট কপি দুবাই ও লিবিয়ায় পাঠায়। সেখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা এবং অন অ্যারাইভাল মোয়াফাকা সংগ্রহ করার পর বেনগাজিতে ক্যাম্প নির্ধারণ করে। এরপর বিভিন্ন চুক্তিতে ভিকটিমদের লিবিয়ায় পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দালালেরা। গত সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন এসব কথা জানান।

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যা ও মানব পাচারের ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, আকবর আলী, সুজন, নাজমুল হাসান, লিয়াকত শেখ ওরফে লিপু, সোহাগ হোসেন, খালিদ চৌধুরী ও মোছা. সানজিদা। এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি পাসপোর্ট, দুটি মোবাইল ফোন ও টাকার হিসাব সংবলিত দুটি নোটবুক উদ্ধার করা হয়।

অন্য দিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরো তিন জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গত সোমবার সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—সোহাগ হোসেন, খালিদ চৌধুরী ও মোছা. সানজিদা। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সিআইডি পল্টন থানায় দুটি ও বনানী থানায় একটি মানব পাচার আইনে মামলা করেছে। এ পর্যন্ত মানব পাচারসংক্রান্ত সারাদেশে দায়েরকৃত ১২টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি।

এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার বাদশা মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া ও লিয়াকত শেখ ওরফে লিপুকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ শুনানি শেষে এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন তাদের তিন জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় রাজধানীর পল্টন থানায় করা ৩(৬)২০ মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য আসামি বাদশা মিয়া ও জাহাঙ্গীর মিয়াকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পল্টন থানার ৭(৬)২০ আরেক মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামি লিয়াকত শেখকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া সুজন মিয়া নামে একজন আসামি ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামি আকবর আলী ও নাজমুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন বলেন, লিবিয়ায় পাচারের পর ভিকটিমদের সেখানে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রেখে অমানুষিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতিত ভিকটিমদের কান্নাকাটি, আকুতি-মিনতি করা অডিও অথবা সরাসরি মোবাইলে কথাবার্তা বাংলাদেশে অবস্থানরত তাদের মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনদের পাঠিয়ে তারা টাকা দাবি করে। ভিকটিমদের বাঁচাতে তার আত্মীয়স্বজন অনেক ক্ষেত্রে ভিটাবাড়ি বিক্রি করে টাকা পাঠায়। নিহত মাদারীপুরের সাত জনকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় আমির হোসেনের কাছে পাচার করেছিল আকবর আলী।