কুড়িগ্রামের উলিপুরে গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গরু মারা যাওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত গরুর শরীর প্রথমে ফুলে গুটি-গুটি হয়। কয়েক দিন পর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে গরুর শরীরে প্রচণ্ড জ্বর এবং খাবার রুচি কমে যায়। উপজেলার রামদাস ধনিরাম গ্রামের কৃষক রোস্তম আলী জানান, তার একটি গাভি ও তিনটি বকনা বাছুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি বাছুর মারা গেছে। উপজেলার তেতুলতলা গ্রামের নুর ইসলামের একটি গাভি, কালিরপাঠ গ্রামের জগদীশ চন্দ্র বর্মনের একটি গাভি, হোকডাঙ্গা গ্রামের ফজলুল হকের একটি ষাঁড়, নতুন অনন্তপুর গ্রামের সাজু মিয়ার একটি গাভি ও একটি বাছুর, গাবেরতল গ্রামের মোকছেদ আলীর একটি বাছুর, মুন্সিপাড়া গ্রামের সুমন মিয়ার একটি গাভি, রাজবল্লভ গ্রামের মোসলেমউদ্দিনের একটি ষাঁড়সহ উপজেলায় বিভিন্ন এলাকার অন্তত কয়েক শ গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন তানভীক জাহান বলেন, আক্রান্ত গরু থেকে সুস্থ গবাদিপশুগুলো আলাদা করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। থাকার জায়গা শুকনো রাখাসহ মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় লাম্পি স্কিন রোগে গত এক সপ্তাহে দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সরেজমিনে নিতাই ইউনিয়নের পূর্ব কাচারীপাড়ার শরিফুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার এক বছরের একটি এঁড়ে বাছুরের পায়ের এবং পেটের মধ্যে ক্ষত হয়ে মাংস খসে পড়ছে। একই অবস্থা আব্দুল আউয়ালের তিনটি, নুরউদ্দিনের পাঁচটি, মজনুর ১০টি, শমসেরের দুটি ,মাজেদুলের দুটি গরুর। একই রোগে নিতাই কাচারীপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা এবং লেবু মিয়ার দুটি গাভি মারা গেছে। বাহাগিলি ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম জানায়, তার দুটি গাভি এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান বলেন, এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিত্সা নেই। তারপরও আমরা লক্ষণভেদে চিকিত্সা অব্যাহত রেখেছি।
