দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদনের চেয়ে বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দিতে যাচ্ছে সরকার। আসন্ন ২০২০-২১ সালের বাজেটে বিদ্যুত্ উত্পাদন বরাদ্দ আনুপাতিক হারে কমেছে। অন্যদিকে এ খাতের মোট বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্পাদন অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে যতটুকু বিদ্যুত্ দরকার এবং নিকট ভবিষ্যতেও যতটুকু বিদ্যুতের চাহিদা থাকবে, সে অনুযায়ী উত্পাদন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু একই সমান্তরালে বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন করা হয়নি। তাই বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ দেওয়া যাচ্ছে না। তাই মানসম্পন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সঞ্চালন ও বিতরণে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে চাহিদার চেয়ে বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মিত হয়েছে। অনেকগুলো বড়ো কেন্দ্র পাইপলাইনে রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী চাহিদা বাড়েনি। তার ওপর করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে আগামী দুই বছর শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে চাহিদা তেমন বাড়বে না। এমন প্রেক্ষাপটে উত্পাদনের চেয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নে নজর দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। পাশাপাশি কম দক্ষ সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া দরকার। একই সঙ্গে অনেকগুলো বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র চাহিদা না থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিদ্যুত্ বিক্রি করতে পারছে না। আবার এ কেন্দ্রগুলো বসে থাকলেও জনগণের দেওয়া রাজস্ব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ পেয়ে যাচ্ছে। এতে উদ্যোক্তা এবং গ্রাহক দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের বিদ্যুত্ আমদানি বন্ধ করে দেওয়া উচিত। বাজেটে এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে মোট ৩০ হাজার ৭৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুত্ খাতে ৯৩ প্রকল্পের জন্য ২৭ হাজার ৫৯৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং জ্বালানি খাতে ২৪ প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ১৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকছে। জ্বালানি খাতের মোট বরাদ্দের মধ্যে ২৬০ কোটি ২৯ লাখ টাকা গ্যাস উন্নয়ন তহবিল থেকে নেওয়া হবে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিদ্যুত্ খাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২৬ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর সংশোধিত বরাদ্দ ছিল ২৪ হাজার ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট বরাদ্দের মধ্যে বিতরণে প্রস্তাব করা হয়েছে ১১ হাজার ১৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর সঞ্চালনে ৭ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ পুরো অর্থ খরচ করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। অর্থাত্ সঞ্চালন ও বিতরণ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ১৮ হাজার ৬৮১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। যা এডিপির প্রায় ৭০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আর শুধু বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৬৫ কোটি ১১ লাখ টাকা।
বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)। টাকার অঙ্কে তা ৫ হাজার ৭০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২ হাজার ২০০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা পাবে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। বিদ্যুত্ উত্পাদনে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (সিপিজিসিবিএল) জন্য।
