মোজাহেদুল ইসলাম
করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে লকডাউন দীর্ঘমেয়াদী হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ইউরোপের দেশগুলিতে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বিশ্বের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতেও বেশ কিছু মানুষকে প্রতিদিনই জরুরি প্রয়োজনে অথবা কাজে বাড়ির বাইরে বেরতে হচ্ছে। এই সমস্ত মানুষের জন্য বাস, ট্রেনের মতো গণপরিবহণ ও অন্যন্য জরুরি খবরের মাধ্যমে সচেতন করতে, সাহায্য করতে নতুন ফিচার আনল গুগল।
করোনার প্রাদুর্ভাবে বিশ্বজুড়ে চলছে এর প্রতিকারের বিভিন্ন কৌশল আবিষ্কারের চেষ্টা। বিশ্বের অনেক বড় বড় ওষুধ কোম্পানি করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আনার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে কয়েক মাস ধরে। যেহেতু এখন পর্যন্ত করোনার কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি তাই সতর্কতাই এর থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র অবলম্বন। এরই ধারাবাহিকতায় গুগলও সর্তকতা রক্ষার্থে গুগল ম্যাপসে এনেছে নতুন ফিচার।
সম্প্রতি সংস্থা তাদের গুগল ম্যাপসে করোনা বিষয়ক সমস্ত বিধিনিষেধ সম্বলিত নতুন ফিচার চালু করেছে। গুগল ম্যাপসের আপডেট করানোর পর বেশ কয়েকটি জরুরি পরিষেবা পাবেন ব্যবহারকারীরা। কখন, কোথা থেকে কোন ট্রেন বা বাস পাওয়া যাবে তা সহজেই গুগল ম্যাপসের সাহায্যে জেনে নিতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
করোনা সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে গুগল ম্যাপসের নতুন ফিচারে। কোন এলাকায় বা কোন স্টেশনে কতটা ভিড়, সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে গুগল ম্যাপসের সাহায্যে। ভারত ছাড়াও নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, কানাডা, মেক্সিকোসহ আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো দেশগুলিতে গুগল ম্যাপসের এই পরিষেবার সুবিধা পাওয়া যাবে।
সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি খুব সহজে স্বাভাবিক নাও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ যে সভ্যতা গড়ে তুলেছে তাতে বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে রোগ সংক্রমণ এবং তার পর তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া-এর ‘নিখুঁত ব্যবস্থা’ করে রাখা আছে। প্রাকৃতিক জগতে মানুষের অনুপ্রবেশ সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করছে। এ কথা বলছেন সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা - যারা কোথায় এবং কীভাবে নতুন রোগের বিস্তার ঘটে তা নিয়ে গবেষণা করেন।
তাদের এই প্রয়াসের অংশ হিসেবে তারা একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন যাতে এসব রোগ বিস্তারে প্রক্রিয়ায় কী কী সাদৃশ্য দেখা যায় তা চিহ্নিত করা সম্ভব, যাকে বলে প্যাটার্ন রিকগনিশন। এ পদ্ধতির ফলে পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব যে কোনো কোন বন্যপ্রাণী মানুষের জন্য সবচেযে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এটি ভবিষ্যতের কোনো রোগবিস্তারের জন্য প্রস্তুত থাকার যে বৈশ্বিক প্রয়াস, তার অংশ।
