মেঘনায় বালু উত্তোলনে বিলীন হচ্ছে গ্রাম

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ২১:১৮

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অপরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিংয়ের ফলে মেঘনা তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে। স্থানীয়রা জানান, জরুরিভিত্তিতে এই ড্রেজিং বন্ধ না করলে আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত গ্রামগুলোর অস্তিত্বই পাওয়া যাবে না। এদিকে ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া গত শুক্রবার (৫ জুন) আতঙ্কিত এক দল গ্রামবাসী ড্রেজারে হামলা চালিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, পরিবেশ আইন ভঙ্গ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চরলাপাং মৌজা ও নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জাচর মৌজার মেঘনা নদী থেকে বালি উত্তোলন করছেন মতিন ইজারাদারের লোকজন। এ দিকে নদীর সীমানা চিহ্নিত না হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

স্থানীয় চরলাপাং গ্রামের ইউপি সদস্য নূরে আলম জানান, ছয়টি মৌজা নিয়ে সৃষ্ট চরলাপাং গ্রামটি তিনটি মৌজা ১, ২, ৩ নম্বর সিটটি আগেই বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে চরলাপাং মৌজার ৪, ৫, ৬ নম্বর সিটের মধ্যে কিছু অংশ গত কয়েক দিনে বিলীন হয়ে গেছে। আরো প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন কবলের শিকারের মধ্যে আছে। ইতিমধ্যে ভাঙন আতঙ্কে নদী তীরবর্তী মানুষ তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা নদীতে ড্রেজার দ্বারা অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নবীনগরের চরলাপাং, চিত্রি, কেদারখলা, সাহেবনগর, মানিকনগর গ্রামে ও রায়পুরার মির্জাচর, শান্তিপুর, বাশগারি, আজিজপুর গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বেও এই গ্রামগুলো ভাঙনের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে বালুমহলের ইজারাদার আ. মতিন সরকার জানান, আমি সরকারিভাবে বালুমহল ইজারা নিয়েই রায়পুরার মির্জাচরের মেঘনা নদী থেকে ড্রেজারে বালু উত্তোলন করছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ইজারা নেওয়া অংশের সীমানা চিহ্নিত না হওয়ায় কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক দুই এলাকার অমীমাংসিত সীমানা চিহ্নতকরণের ব্যবস্থা করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পত্র দিয়েছেন। তাই আশা করা যায় সীমানা সমস্যার সমাধান হলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।