‘রেড জোন’ কক্সবাজারে চলছে লকডাউন

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ২১:২০

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার  

বিশ্ব মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে কক্সবাজারে প্রথম লকডাউন ঘোষণা আসে ৮ এপ্রিল। এর আগে ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন বন্ধ করে দেওয়া হয়। গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয় অবস্থানরত পর্যটকদের। ধীরে ধীরে জনশূন্য এলাকায় পরিণত হয় কোলাহলপূর্ণ পর্যটন নগরী কক্সবাজার। সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ থাকায় ৩০ মে পর্যন্ত দীর্ঘ সোয়া দুই মাস আয়-রোজগার শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়ায়। কক্সবাজার ট্যুরস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (টুয়াক) নেতা মিজানুর রহমান মিল্কী বলেন, এত কিছুর পরও সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও করোনার প্রাদুর্ভাব থামানো যায়নি। এসবের মধ্যেও ৩০ মে লকডাউন শিথিল করা হলে একটা আশা জেগেছিল, ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাবে পর্যটন নগরী। কিন্তু করোনার তীব্র আক্রোশে শনিবার থেকে ‘করোনা রেড জোন’ কক্সবাজারে আবারও লকডাউন শুরু হয়েছে। এতে পর্যটনের আশার গতি আবারও শ্লথ হয়ে গেছে। করোনাকালের এ সময়ে পর্যটনেই শুধু কয়েকশ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রীক বিভিন্ন সেক্টরে বেকার হয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষ কর্মী। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, এত প্রচেষ্টার পরও কক্সবাজারে  করোনার থাবা থামানো যায়নি। ৫ জুন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার সন্দেহজনক রোগীকে পরীক্ষার আওতায় আনা গেছে। এদের মাঝে করোনা পজিটিভের সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। করোনায় মারা গেছেন প্রায় ২০ জন। করোনা উপসর্গ নিয়েও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনা ঠেকাতে সংক্রমণ পরিসংখ্যান বিবেচনায়  কক্সবাজার শহরের ১০টি ওয়ার্ডকে পক্ষকালের জন্য ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে । ‘রেড জোন’ এলাকার বাসিন্দারা অন্য এলাকায় যেমন যেতে পারবেন না, তেমনি অন্য এলাকার বাসিন্দারাও করতে পারবেন না ‘রেড জোনে’ গমনাগমন।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, শনিবার সকাল হতে ২০ জুন মধ্য রাত পর্যন্ত কক্সবাজার শহর পক্ষকালের জন্য লকডাউন থাকবে। এমনকি বাজারও খুলবে সপ্তাহের রবি ও বুধবার দুই দিনের জন্য। তবে কেবল ওষুধের দোকানগুলো পূর্বের নিয়মে খোলা থাকবে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে শহরের ১ নম্বর ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড দুটিকে ইয়োলো জোন হিসাবে ভাগ করা হয়েছে। প্রশাসন ও শৃঙ্খলাবাহিনী এবং জনপ্রতিনিধি-সচেতন যুব সমাজের সমন্বয়ে গড়া টিম কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করছে। মাঠে রয়েছে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।