ফ্রিজ কি করোনা ভাইরাসের নিরাপদ আশ্রয়স্থল?

আপডেট : ১০ জুন ২০২০, ২২:৪৩

নোভেল করোনা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৪ লাখের বেশি মানুষ মারা গেলেও এই ভাইরাসের উত্স, চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য, গতিপ্রকৃতি বা বিবর্তনের ধরন সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি বিজ্ঞানীরা। শুরুতে একসময় মানুষের ধারণা ছিল, উচ্চ তাপমাত্রায় এই ভাইরাস বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারে না; তবে এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এখনো পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাস নিয়ে এ রকমেরই আরেকটি ধারণা হলো, অন্যান্য স্থানের তুলনায় ফ্রিজের ভেতরে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ভাইরাসটি বেঁচে থাকতে পারে। তবে করোনা ভাইরাস-সংক্রান্ত অন্যান্য মতবাদের মতো                 এই বিষয় নিয়েও শতভাগ নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।

এর আগে যেসব করোনা ভাইরাস পরিবেশে ছিল, সেগুলোর কয়েকটি প্রজাতি হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় পুরোপুরি কার্যকরভাবে বেঁচে না থাকলেও স্থিতিশীল অবস্থায় টিকে থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছিল বিজ্ঞানীরা। ২০১০ সালে আমেরিকান সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজির এক গবেষণায় উঠে আসে যে সার্স করোনা ভাইরাস (যেটি অনেকটা কোভিড-১৯ ভাইরাসের মতো) প্রায় ৪.৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে। সাধারণত বাসাবাড়িতে যেসব রেফ্রিজারেটর ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এই তাপমাত্রা থাকে।

এ কারণেই ফ্রিজে কোনো খাবার রাখার আগে জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ফ্রিজে রাখার পরে তো বটেই, ফ্রিজে রাখার আগেও সব খাদ্যপণ্য অথবা পণ্যের প্যাকেট অন্তত একবার জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া জরুরি। গবেষণায় উঠে আসে, তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা ২০ শতাংশের নিচে হলে সার্স করোনা ভাইরাস প্রায় ২৮ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াাস আর আর্দ্রতা ৮০ শতাংশ হলে ভাইরাসটির স্থায়িত্বকাল ছয় ঘণ্টার মতো। এ কারণেই অনেক বিশেষজ্ঞ এই প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আর পরবর্তী গবেষণার জন্য অপেক্ষা না করে ফ্রিজ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কাছাকাছি প্রজাতির একটি করোনা ভাইরাস যেহেতু ফ্রিজে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে, কাজেই নোভেল করোনা ভাইরাসেরও একই বৈশিষ্ট্য থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোর গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউটের রিসার্চ সাইন্টিস্ট ও ভাইরোলজিস্ট ড. ওয়ার্নার গ্রিন গত এপ্রিলে মার্কিন সংবাদ সংস্থা এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, করোনা ভাইরাস চরিত্রগতভাবে একটি ‘আঠালো’ ভাইরাস। ঐ সাক্ষাত্কারে ড. গ্রিন বলেছিলেন, এই ভাইরাস (সার্স) বিভিন্ন সমতলে আশ্চর্যজনকভাবে লম্বা সময় পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ  মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট নজরুল ইসলাম বলেন, ফ্রিজে রাখা খাবারের প্যাকেট বের করার পর প্যাকেটটি জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে নেওয়া প্রয়োজন। ফ্রিজে রাখা শাকসবজি রান্না করার আগে কিছুক্ষণ সাবান মিশ্রিত পানিতে রেখে ধুয়ে নিতে হবে। আর মাছ-মাংস যে প্যাকেটে বা পাত্রে রাখা হবে, সেটিকেও জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া জরুরি। —বিবিসি