বরিশাল বিভাগ জুড়ে টেকনোলজিস্ট পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য থাকায় কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা।
গত দুই-তিন দিন ধরে বরিশাল সিটি করপোরেশন টেকনোলজিস্ট সংকটে কার্যক্রম বন্ধ এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) টেকনোলজিস্ট সংকটে কার্যক্রম সংক্ষিপ্তভাবে করায় পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করেছে। বরিশাল সিটি করপোরেশনের করোনা টেস্টের জন্য ছিল দুই জন টেকনোলজিস্ট, শেবাচিমে করোনা ইউনিটের জন্য রয়েছে মাত্র এক জন টেকনোলজিস্ট, সদর হাসপাতালেও রয়েছে এক জন টেকনোলজিস্ট। সিটি করপোরেশনের দুই জন টেকনোলজিস্টই অসুস্থ হয়ে পড়ায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বরিশাল নগরীর করোনা শনাক্তের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, ১ হাজার বেডের হাসপাতালে টেকনোলজিস্ট পদ রয়েছে মাত্র ছয়টি। একটি পদ শূন্য। এক জন টেকনোলজিস্ট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের দপ্তরের ছয় জনসহ মোট ৫৮ জন চিকিত্সক, নার্স, স্টাফের করোনা শনাক্ত হয়েছে এ হাসপাতালে। এজন্য হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত ও কর্মরতদের ব্যতীত উপসর্গ বুঝে করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপসর্গ দেখে বহিরাগতদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহিরাগতের জেনারেল (সদর) হাসপাতালে প্রেরণ করায় এক জন টেকনোলজিস্ট মহানগরীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। দুই দিন আগে সিটি করপোরেশনের দুই জন টেকনোলজিস্ট করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় তা বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের সদর উপজেলার টেকনোলজিস্ট এনে নমুনা সংগ্রহ করানো হচ্ছে যা সময় সাপেক্ষ।
জেনারেল (সদর) হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেলোয়ার হোসেন জানান, কর্মরত এক জন টেকনোলজিস্টের এরই মধ্যে দুই বার করোনা পজিটিভ আসায় ছুটিতে ছিলেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাকে দিয়েই প্রতিদিন ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। শের-ই-বাংলা থেকে প্রেরিত এবং আক্রান্তসহ তাদের স্বজনরা ভিড় করছেন এ হাসপাতালে। অথচ এ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ১৩ জনকেই চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তার ওপর প্রতিদিন শতাধিক ব্যক্তির চাপ সামাল দিতে হচ্ছে তাদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল ইত্তেফাককে জানান, বিভাগে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে ১০২টি। এ পদের অনুকূলে ৪৪ জন কর্মরত, ৫৮টি পদ শূন্য রয়েছে।
বরিশাল বিভাগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১১৬ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর বরিশাল জেলাতেই আক্রান্ত হয়েছে ৭০১ জন, যার মধ্যে বরিশাল নগরীতে আক্রান্ত ৫৬৪ জন। এ পর্যন্ত বিভাগে মারা গেছে ২৩ জন। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় আট জন। অথচ সেই নগরীতেই করোনা পরীক্ষার অবস্থা বেহাল। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নমুনা সংগ্রহের চাহিদা সংগ্রহের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হলেও টেকনোলজিস্ট সংকটে তা সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) ও জেনারেল (সদর) হাসপাতালে দেখা গেছে, করোনা পরীক্ষা করাতে এসে তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়ে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছেন। শেবাচিম হাসপাতাল থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সদর হাসপাতালে আবার সদর হাসপাতাল থেকে বলা হচ্ছে পরে আসতে। এর ফলে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীরা পড়েছেন মহাবিপাকে। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করেছেন।
