দেশে করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর পর তিন মাস পার হওয়ার আগেই সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেল। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১২ জন। এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৯৬৫ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এক দিনে সর্বোচ্চ পরীক্ষায় সর্বোচ্চসংখ্যক ব্যক্তির করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ১৯০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৮৬৫ জন।
নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এ সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। ২০ এপ্রিল তা ১০০ ছাড়ায়; মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায় ২৫ মে। এই হিসাবে করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল ২ মাস ৭ দিন। আর পরের ৫০০ জনের মৃত্যু ঘটল মাত্র ১৬ দিনের মধ্যে। মঙ্গলবার এক দিনে ৪৫ জনের মৃত্যু এবং ৩ হাজার ১৭১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ার তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা ছিল এক দিনের সর্বোচ্চ। কিন্তু বুধবারের শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তাকেও ছড়িয়ে গেল। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো ৫৬৩ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ১৫ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ, চার জন নারী। তাদের ২৫ জন হাসপাতালে এবং ১২ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের ২৫ জন ঢাকা বিভাগের, সাত জন চট্টগ্রাম বিভাগের, এক জন সিলেট বিভাগের, এক জন রাজশাহী বিভাগের, দুই জন বরিশাল বিভাগের এবং এক জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এই ৩৭ জনের এক জনের বয়স ৮০ বছরের বেশি ছিল। এছাড়া সাত জনের বয়স ছিল ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, পাঁচ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিন জনের বয়স ছিল ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং এক জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
