৫০ হাজার ভুয়া কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানি

আওয়ামী লীগ নেতার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসনের মামলা

আপডেট : ১১ জুন ২০২০, ০০:৩২

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ব্যবহারের জন্য কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানি করতে গিয়ে বড়ো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলান করপোরেশনের বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানটি মালিক আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। জালিয়াতির মাধ্যমে নিম্নমানের ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক আমদানির অভিযোগ এনে ইতিমধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এলান করপোরেশনের মালিক আমিনুল ইসলাম ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে।

গত ২৯ মে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে গত ২৭ মে মাস্ক আমদানির জন্য দেওয়া অনুমোদন ও অনাপত্তি সনদ বাতিল করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল ৫০ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য ঢাকার পুরানা পল্টনের এলান করপোরেশনের স্বত্ব্বাধিকারী আমিনুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেয় ঢাকার মহাখালীর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। পরে ঢাকা শুল্ক বিভাগ থেকে মাস্কগুলো খালাসের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অনাপত্তি নেওয়ার জন্য আবেদন করে। গত ১৮ মে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনাপত্তিসূচক সনদ প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, অনাপত্তি নেওয়ার জন্য এলান করপোরেশন যেসব কাগজপত্র জমা দিয়েছে বা দেখিয়েছিল, সেগুলো ভুয়া।

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুসন্ধানে আরো জানতে পারে, প্রতিষ্ঠানটি যে ফ্রি সেল সার্টিফিকেট প্রদান করেছিল সেটি মাস্ক উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই ইস্যু করেছে; অথচ এটা ইস্যু করার কথা ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটির। অন্যদিকে আইএসও সার্টিফিকেট ইস্যুকারী জার্মান প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, এলান করপোরেশনের দেওয়া সার্টিফিকেটটি চীনের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা। অথচ এলান করপোরেশনের দাখিল করা কাগজপত্রে লেখা ছিল চীনের জিয়ামেন টেকনোলজি নামের ভিন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম।